বাবার কাঁধেই মারা গেল ১২ বছরের অনশ (ভিডিওসহ)

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অনশ কুমার। প্রচণ্ড জ্বর। স্থানীয় ক্লিনিকে দুইদিন চিকিৎসাও নিয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি।

এরপর স্থানীয় সরকারি হলেট হাসপাতালে অনশকে নিয়ে যান তার বাবা সুনীল কুমার। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে ছেলেকে নিয়ে যান মেনানিক সুনীল। কিন্তু চিকিৎসক তাকে না দেখে শিশু বিভাগে দেখাতে বলেন। তাও আবার আধা ঘণ্টা পর।

জরুরি বিভাগ থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে শিশু বিভাগ। হাসপাতাল থেকে স্ট্রেচার না দেয়ায় কাঁধে করেই অনশকে শিশু বিভাগে নেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে অনশ যে জ্বরের কাছে পরাজিত হয়েছে তা হয়তো সুনীল নিজেও বুঝতে পারেননি।

শুক্রবার ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

শিশু বিভাগ থেকে বলা হয়, কয়েক মিনিট আগে আনলেও অনশকে বাঁচানো যেত। কিন্তু সুনীলের প্রশ্ন, ‘শিশু বিভাগে আসতে তার নয় মিনিট সময় লেগেছে। এই নয় মিনিটেই কীভাবে মারা গেল তার ছেলে?’

এরপর ছেলের লাশ বাড়ি নিতে একটি অ্যাম্বলেন্স দিতেও অস্বীকৃতি জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে কাঁধে করেই ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন সুনীল।

উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিদাস মেহথ্রো অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।

তবে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবার মান যে খুবই খারাপ, এ দৃশ্য দেখার পর তা আর বলে দিতে হবে না।

তাছাড়া কয়েকদিন আগেও দেশটির ওডিশা প্রদেশে এক ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় স্ত্রীর লাশ নিয়ে ১২ কিলোমিটার হেঁটে যান। যা দেশীয় তো বটেই, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচার করা হয়।
সুত্র:ani news