সিলেট নিউজ বিডি: প্রথম দিনেই জমে উঠেছে আয়কর মেলা। নবীন-প্রবীণ করদাতাদের অংশগ্রহণে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন যেন পরিণত হয়েছে করদাতা ও গ্রহীতাদের মিলনমেলায়। মেলার প্রথম দিনেই সারাদেশে আদায় হয়েছে ১৯১ কোটি টাকা কর।
জাতীয় রাজস্ববোর্ডের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন জানান, সপ্তাহব্যাপী চলা মেলার প্রথমদিনেই করদাতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমদিনেই সারাদেশে ১৬ হাজার ৮৬ জন আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর বিপরীতে কর পাওয়া গেছে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ৮১২ টাকা। এছাড়া সেবা গ্রহণ করেছে ৫৯ হাজার ২৯২ জন। নতুন ই-টিআইএন হয়েছে ৪৮৭৫টি।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এই মেলা উদ্বোধনের আগেই করদাতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন ধরে নিজেদের প্রয়োজনীয় আয়কর সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহসহ রিটার্ন জমা দেন শত শত আয়কর দাতা। এদের মধ্যে অনেকে নতুন ই-টিআইএন নিচ্ছেন।
দুপুরে আগারগাঁওয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।
মেলা উদ্বোধনের আগেই সকাল থেকে বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন নিতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। এই টোকেন দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টলে গিয়ে সেবা নেন তারা।
ঢাকায় আয়কর মেলায় করদাতাদের জন্য ১০৯টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মহিলা, কর ও মূসক ট্রাইব্যুনাল এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে।
দুপুর ১২টায় আগারগাঁওয়ে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে শত শত আয়করদাতার ভিড়। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। কেউ ফরম তুলছেন, কেউ অনলাইন সেবা নিচ্ছেন, আবার কেউবা আয়কর দাখিল করছেন।
আগারগাঁওয়ে আয়কর দিতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী মো. জুলহাস হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম প্রথম দিন ভিড় কম হবে। কিন্তু এসে দেখছি মানুষের ভিড়ে হাঁটাই যাচ্ছে না। যাক তারপরেও ভালোভাবেই আয়কর দিলাম। আয়কর দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন রাহেলা খাতুন। তিনি জানালেন, ‘বাবার আয়কর দিতে স্বামীকে নিয়ে আমি মেলায় এসেছি। এর আগে আমার মা আয়কর দিয়ে গেছেন। পরিবারের কাছ থেকে আমরা এটা শিখেছি।’
রাহেলা খাতুনের অভিযোগ, ‘আমরা আয়কর দিলেও সরকার আমাদের ভালোমানের সেবা দিতে পারছেন না। আমাদের জন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত পারলিক টয়লেট নেই, হাসপাতালের যাচ্ছেতাই অবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থা ভঙ্গুর। সরকারের উচিত আয়করের টাকা জনগণের কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা।’
মেলা ঘুরে দেখা যায়, অনেকে টেবিলে বসে নিজের নিজের আয়কর ফরম পূরণ করছেন। এসময় প্রতিটি টেবিলেই আয়কর নির্দেশিকা বই দেখা গেছে।
রাজধানী মোহাম্মদপুর থেকে আয়কর দিতে এসেছে আজম আলী। সঙ্গে এনেছেন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সামান আরিফকে। বাচ্চাকে আনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেন এনজয় করতে পারে সেজন্য ওকে এনেছি। তাছাড়া ছোট থেকেই ওর মনে যেন কর দেয়ার মানসিকতা তৈরি হয় সেটাও একটি কারণ।’
এনবিআর সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে মেলা। তবে পাঁচটার পর ভেতরে আয়করদাতা থাকলে তাদের আয়কর নেওয়া হবে।
সপ্তমবারের মতো শুরু হওয়া এ মেলা ঢাকা ছাড়াও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে সাত দিন ধরে মেলা চললেও জেলা শহরগুলোতে চারদিন ও ২৯ উপজেলায় দুইদিন এবং বাকি ৫৭ উপজেলয় ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper