পাঁচ দফা দাবিতে প্রাথমিকের শিক্ষকদের আল্টিমেটাম

সিলেট নিউজ বিডি: পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডসহ করস্পেন্ডিং স্কেলে বেতন নির্ধারণ, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদান, দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ, সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে পরিচালক পদ পর্যন্ত শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা ও স্টেনোগ্রাফারদের পদোন্নতি বাতিল করে প্রধান শিক্ষকদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী মনিটরিং অফিসার, সহকারী ইন্সট্রাকটর পদে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। এছাড়া সমাপনী পরীক্ষা ছাড়া বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষা আগের ন্যায় বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরিসহ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা ও প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি নন ভেকেশনাল হিসেবে গণ্য করার দাবিও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আগামী ১০মের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির নেতারা।

তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১১ মে স্ব স্ব উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের কাছে দাবিনামা প্ররণ, ১৬ মে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি, ১৭ মে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সারাদেশের সব বিদ্যালয়ে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন, ১৮ মে স্ব স্ব জেলায় মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ৮ জুলাই ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলে সংগঠনটির নেতারা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, ‘২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ঘোষণা দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনও ১১তম গ্রেডে রয়েছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের ১০ গ্রেডে হওয়ার কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৪ গ্রেডে অবস্থান করছে। তাদের হওয়ার কথা ১১ গ্রেডে। এছাড়া স্টেনোগ্রাফারদের পদোন্নতি দিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার ও সহকারী মনিটরিং অফিসার করা হচ্ছে। তারা এসএসসি পাস করেই এমন পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছে। আর আমরা সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও পদোন্নতি পাচ্ছি না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা স্টেনোগ্রাফারদের পদোন্নতি বাতিল করে প্রধান শিক্ষকদেতর নিয়মিত পদোন্নতির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। তার কন্যা শেখ হাসিনা ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার অভাব নেই। আশা করছি তিনি আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নন ভেকেশনাল হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। কারণ তারা অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়ে ছুটি কম ভোগ করেন। তাই অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের সমান সুযোগ প্রাথমিক শিক্ষকদেরও দিতে হবে।’ তিনি জানান, ‘এটি নিয়ে আমরা আদালতে রিট করেছি। এটির প্রাথমিক শুনানি হয়েছে। এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া, সাহিত্য সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, সুবল চন্দ্র পাল, সিদ্দিকুর রহমান, আয়নাল হক, আরিফ দেওয়ান, ফারুক আহমেদ রিপন, সেলিনা আক্তার প্রমুখ।