মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে শীর্ষে চীন-রাশিয়া!

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক:মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে তৎপর রয়েছে খোদ মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশ্বে এই সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেয়াড়া বলে কুখ্যাতি রয়েছে। আর এসব কুখ্যাত সেনারা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করে তার বেশিরভাগই আসে চীন রাশিয়া থেকে।

মিয়ানমারে অস্ত্র যোগান দেয়ার তালিকায় সবার আগে চীন। এরপর রাশিয়া ও ইসরায়েল। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে যারা অস্ত্র বিক্রি করে সে তালিতায় আরো আছে জার্মানি, ভারত, উত্তর কোরিয়া, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, বেলারুশ। এ তালিকায় সাবেক যুগোশ্লাভিয়া ও ইউক্রেন রয়েছে।

গেল শতকের মাঝামাঝি ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে মিয়ানমার। স্বাধীনতা লাভে সেনাবাহিনীর অবদান ছিল মূখ্য। তাই তখন থেকেই মিয়ানমারের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি কব্জা করে রেখেছে সেনাবাহিনী। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক জান্তার অধীনে শাসিত হয়েছে মিয়ানমার।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলে ১৯৯০ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জারি করে। সে পরিস্থিতির মধ্যে কেটে যায় দুই দশকের বেশি সময়। ২০১২ সালে দেশটিতে গণতন্ত্রের সুবাতাস পাওয়া যায়। ক্ষমতায় আসে অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি। এরপর আন্তর্জাতিক অবরোধ কিছুটা শিথিল হয়। এখনো দেশটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।

বিশ্বগণমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে। এ সময়ের মধ্যে ভারত, ইসরায়েল, ইউক্রেন থেকেও মিয়ানমারের অস্ত্র কেনে।

গণমাধ্যমের জরিপ মতে, গেল ২৬ বছরে শুধু চীনের কাছ থেকেই ১২০টি যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তবে চীন সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ বিমান বিক্রি করলেও মিয়ানমার অন্যদেশগুলো থেকেও কিনেছে অনেক বিমান। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কিনেছে ৬৪টি যুদ্ধ বিমান। পোল্যান্ড থেকে ৩৫টি, জার্মানি থেকে ২০টি, সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে ১২টি, ভারত থেকে ৯টি, সুইজারল্যান্ড থেকে ৩টি ও ডেনমার্ক থেকে একটি যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

চীন থেকে যেমন সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ বিমান কিনেছে, ঠিক একইভাবে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে মিয়ানমার। রাশিয়া থেকে মিয়ানমারের কেনা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭১টি। তবে রাশিয়ার পরে আবার সেই চীনেরই অবস্থান। চীন থেকে কিনেছে ১ হাজার ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র।

মিয়ানমার গেল ২৬ বছরে মাত্র ২১টি নৌজাহাজ কিনেছে চীন থেকে। আর সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে তিনটি ও ভারত থেকে কিনেছে তিনটি নৌজাহাজ। রাশিয়া ও চীনের অস্ত্র রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে মিয়ানমার। গেল কয়েক দশকে মিয়ানমারের কাছে কোটি কোটি বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে চীন রাশিয়া।