সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতার প্রশ্নে চীন বা ভারতের মতামত বিবেচ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ই্য়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন-ভারতের অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সমস্ত রাষ্ট্রদূত তারা কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওখানে যায়। তারা তাদের অবস্থা দেখে, কথা বলে। এরপর প্রত্যেকেই সহানুভূতিশীল মন নিয়েই বিষয়টা দেখেছে।’
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘চীন বা ভারত তাদের কী কথা, কী মত সেটা আমার এত বিবেচ্য বিষয় না। কারণ এটা তাদের যার যার দেশের মতামত। আমাদের দেশে তারা যখন রোহিঙ্গাদের দেখেছেন, তখন তারা প্রত্যেকেই সহানুভূতিশীল, সেটা আমরা দেখেছি। ভারত চীন সকলেই এগিয়ে এসেছে। তারা রিলিফ পাঠাচ্ছে। সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’
জাতিসংঘের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরা ও এর সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে ভাষণ, ওআইসির কন্ট্রাক্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সেশনে রোহিঙ্গাদের বিষয় তুলে ধরার কথাও বলেন।
উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত প্রায় এক মাসে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটিতে জাতিগত নিপীড়নের শিকার এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর আরও প্রায় চার লাখ সদস্যকে কয়েক দশক ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। গেল ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণে মিয়ানমারে উৎপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় প্রস্তাব তুলে ধরে মানবিক এই সঙ্কট অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপ চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
Sylhetnewsbd Online News Paper