আব্দুল হাদী ::
বিখ্যাত ভারতীয় সাপ্তাহিক সাননদায় এক পসারিনি বলেছিলেন আমি দুই হাজার পুরুষের সাথে বিছানায় কাঠালেও নিজেকে গঙ্গার জলের মতো পবিত্র মনে করি কেননা এটা আমার পেশা , আর আমি এটাতে আসিনি আমাকে জোর করে আনা হয়েছে। এ কথার মূল্যবোধ কি হতে পারে আমার জানা নেই কিন্তু যারা বুঝতে পারবেন তারা হয়তো ভালো বলতে পারবেন।
নারী ”মা” এ সম্মানের চাইতে আর কোন বড় সম্মান পৃথিবীতে আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু তাদের এ সম্মান বোধ টুকু কোথায় হারিয়ে যায় , কিভাবে হারিয়ে যায় ? সে সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে অনেক রহস্যের বেড়াঝালে আবদ্ধ হতে হয়। অনেকটা দায়ি হয় স্বার্থপর পুরুষ আর অনেক ক্ষেত্রে নারীরা নিজেই দায়ী হয়ে থাকে।
দেশের প্রচলিত আইনে নাকি বলা আছে কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় এ পেশার সাথে সংম্পৃক্ত হতে চায় তাহলে কোন বাধা নেই।
এক পতিতার উক্তি : আমি রাতে কারো বিছানায় গিয়ে রাত্রি যাপন করলে নেই হাজার টাকা তাই পতিতা কিন্তু যারা এক রাত কাঠাতে খদ্দেরের কাছ থেকে নেয় লক্ষাধীক টাকা তারা পতিতা হয়না বরং সমাজের উচ্চ শ্রেণীর হয়েই বাস করে। এখানেও ভেদাভেদ আছে কিন্তু ঘুরে ফিরে বিষয়টি কি এক নয়। যে পতিতা বলেছে সে হয়তো মনের জ্বালা মেটাতে এ উক্তিটি করেছে।
দেশের প্রতিটি জায়গায় নানা কৌশলে চলছে পতিতা ব্যবসা , সেখানে নাকি আয় হয় ভালো। হিসেব অনুযায়ী দেখা যায় একজন পতিতা প্রতি রাতে হাজারের উপরে টাকা রোজগার করে তাহলে এক বছরে তারা অনেক টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার কথা কন্তিু তা হয়না তাহলে তাদের এতো টাকা যায় কোথায় ? সে প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে অনেক বিপদ।
সেই পসারিনির মতো এক সুদখোরেরও উক্তি : আমি মানুষকে টাকা দিলে তারা আমাকে টাকা ফেরত দেওয়ার সময় সাথে যে টাকা দেয় সেটাকা আমি মায়ের দুধ হিসেবে খাই কেননা আমি টাকা দিয়ে মানুষের সেবা করি। বেচারা সেই পসারিনির চাইতে আরো পবিত্র।
অনেক পতিতা ক্ষুধার যন্ত্রনায় বেছে নেয় এ পথ । আবার অনেকেই নাকি বিক্রি হয়ে যায়। তাহলে সব কিছুর মুলেই কি টাকা ? দেশে কত পতিতা আছে তার হিসেব কারো জানা না থাকলেও দৌলতদিয়ার কিছু সংখ্যক পতিতার তালিকা আছে । এদের যারা চেনে দিনের আলোতে দেখলে না চিটকায় ,যেন মৃত পচাঁ একটি জন্তু , কিন্তু রাতের আধার নামলে এদের অনেক কদর বেড়ে যায়। সমাজপতিরা যারা তাদের মৃত জন্তু ভাবে তারাই কিছুটা বিনোদনের জন্য তাদের সাথে অনেক সময় কাঠায়।
কারো মূল্যেবোধে আঘাতের জন্য এসব লিখছিনা মনে হলো এসব ঘটনা বাস্তব তাই লেখার ইচ্ছে হলো। শরীরকে বিক্রি করে যারা টাকা উপার্জন করে সে টাকা তারা নিজেরাই খায় এমন নয় , সেখান থেকে ভাগ ভাটোয়ারা হয় অনেক ভালো মানুষের মধ্যে।এরা কখনো পতিতার মতো হবেন না। যারা এসব ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের একটা পরিচয় আছে তারা পতিতা এতে কেউ নাক চিটকাক আর জন্তু ভাবুক তাতে তাদের কিছু যায আসেনা কিন্তু যারা এদের টাকায় ভাগ বসায় এবং তাদের দিয়ে ব্যবসা করে তাদের কি বলা যায় ? আর যারা সমাজের ভালোমানুষ তারা যখন লোকালয়ে তাদের সাথে রাত কাঠায় দিনের আলোতে পবিত্র বলে নিজেকে জাহির করে তাদের কোন নামে ভূষিত করা যায় ?
এসব বিষয়ে আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই তবে মাস খানেক আগে কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে এক পাগলীর সাথে নীরবে আলাপ করে। সময়কাল বললেও স্থান বলবোনা ,দুই তিন দিন ধরে তাকে আমি নজরে রেখেছি। এক হাতে পুরোনো বোতল , আরেক হাতে লাটি মিশ্রভাষায বক্তৃতা চলছে । যার তার পথ আগলে টাকা খুজছে কেউ দিচ্ছে কেউবা তাড়িয়ে দিচ্ছে । এভাবেই চলছে তার , মাজারি গড়নের দেহ , শরীরে অনেকটা অস্বস্তিকর গন্ধ , গায়ে ছেড়া নোংরা জামা কাপড় , চেহারার মধ্যে অনেক রোগের চাপ । ভালো করে তার দিকে থাকাবার কোন অবস্থা তার মধ্যে নেই।
আমিও তার মাতলামীর স্বীকার হলাম ,টাকা চেয়ে বসলো আমি দিতে নারাজ কিন্তু কিছুতেই মানছে না দিতেই হবে। টাকা দেবো কিন্তু শর্ত আছে বলতেই সে আমার দিকে চোখ লাল করে থাকালো কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু বলে নাই । কিছুক্ষন নিরব থাকার পর আবার টাকা চাইলো আমি আবারো বললাম দেবো তবে আমার সাথে কিছু কথা বলতে হবে । মিথ্যা বলা যাবেনা সব সত্য করে বলতে হবে। পাল্টা প্রশ্ন কত টাকা দেবে ?
আমি টাকার অংকটা বলিনি , দেবো বলেছি তাই সে সম্মত হলো আমার সাথে কথা বলবে। আমি প্রথমে তার পরিচয়টা জানতে চাইলাম , কিন্তু সে পরিচয় দিতে চাইলো না। তার কথা শুনে মনে হলো সে আসলে পাগল নয় । জানার আগ্রহটা আরো বেড়ে গেলো । অনেক্ষন কথা বলার পর সে তার পরিচয় না দিলেও জীবনের গল্পটা শুরু করে দিলো। সে সব গল্প লিখতে হলে যারা লিখে থাকেন তাদের প্রযোজন কিন্তু এতোটা সাজিযে গুজিয়ে আমার পক্ষে এসব লেখা সম্ভব হবেনা।
আমি শুধু সারংশটুকু লিখেই শেষ করতে পারি । তার আসল পরিচয় হলো সে একজন পতিতা ছিলো , তার জীবনও সাধারন মানুষের মতো একটা জীবন ছিলো কিন্তু সে সব হারিয়ে পেলেছে। এখন আর বাচার পথ নেই। যে শরীর নিয়ে বেচে আছে সেদিকে আর সমাজের ভালো মানুষের চোখের নজর কাড়া সম্ভব হয়না । কেউ তাকে দিয়ে ব্যবসা করতে পারেনা । এ জীবন নিয়ে আর নিজের সংসারের কারো কাছে যেতে পারছেনা । তাই বেচে নিতে হয়েছে এ পাগলামি । এখানে কোন বিপদ নেই , যা হয় তা দিয়েই জীবন চলে যাবে …..!
সেদিন পঞ্চাশ টাকা হাতে ধরিয়ে বিদেয় নিয়েছিলাম ইচ্ছে ছিলো পরের দিন আরো কথা বলা হবে কিন্তু আর তাকে খোজে পেলাম না হয়তো স্থান ত্যাগ করেছে। তাই বলি জীবনের গল্প একই ধারার কিন্তু কখনো চরিত্র বদলায় তবে এসব জীবনের চরিত্র গুলো একেবারে ভিন্ন হয়ে থাকে ।
Sylhetnewsbd Online News Paper