সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ পৌষের শেষ সপ্তাহে কনকনে শীতের সকাল, ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ। এর মধ্যেও টঙ্গীর তুরাগতীরের দিকে এগিয়ে চলেছে মুসল্লির ঢল। বেলা ১১টা নাগাদ তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের সড়কের তিন-চার কিলোমিটার জুড়ে জনসমুদ্র।
লাখো মানুষের এই কাফেলার মধ্য দিয়ে রোববার(১৪জানুয়ারী) আখেরি মোনাজাত করে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চেয়েছেন মুসল্লিরা। প্রার্থনা করেছেন দেশ-জাতি-মানবতার কল্যাণ ও সমৃদ্ধি।আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। সে অনুযায়ী বেলা ১১টা ৮ মিনিটে মোনাজাত শুরু করেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় তাবলিগ মুরব্বি মাওলানা সা’দ। তাঁর সঙ্গে লাখো মুসল্লি দুই হাত তুলে ‘আমিন’, ‘আমিন’ ধ্বনি তোলেন। বিশ্ব ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে সেই ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ২৪ মিনিটের এই মোনাজাতে ব্যক্তিজীবনের গুনাহ মাফ, দোজাহানের কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নিজের দেশ ও বিশ্বের শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সব মানুষের হেদায়েত, অসুস্থদের জন্য রোগমুক্তি, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্তদের পরিত্রাণ, পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়া আত্মীয়স্বজনসহ সব কবরবাসীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। মোনাজাতে অংশ নিতে সকাল ১০টা নাগাদ ইজতেমার মাঠকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়কের তিন-চার কিলোমিটার এলাকা পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। তুরাগ নদের পাড় দিয়ে বহু নৌকা ভিড়িয়ে মোনাজাতের অপেক্ষায় ছিলেন নদীপথে আসা মুসল্লিরা। ভরে গিয়েছিল আশপাশের দোকান, কারখানা, অফিস ও ঘরবাড়ির ছাদ। যত দূর চোখ যায়, ছিল শুধু মানুষ আর মানুষ। অনেকে খবরের কাগজ, পলিথিন, পাটি, জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েছিলেন বিভিন্ন ভবন ও বিপণিবিতানের সামনে, সড়কের পাশে।
আখেরি মোনাজাতের জন্য টঙ্গীর আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ অনেক অফিসে ছিল ছুটি। কিছু প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। অনেক নারীও আসেন মোনাজাতে অংশ নিতে।
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর চার দিন বিরতি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।
হেদায়েতি বয়ান:
গতকাল সকাল নয়টা থেকে মোনাজাতের আগ পর্যন্ত চলে হেদায়েতি বয়ান। বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সা’দ। তার বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা হাফেজ যোবায়ের। বয়ানে তিনি বলেন, ‘আমিরের ফয়সালা মানা ওয়াজিব। আমিরের শরিয়তসম্মত ফয়সালাগুলো আমরা মেনে চলব। আমিরকে না মানলে মতপার্থক্য কোনো দিন শেষ হবে না।’
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Sylhetnewsbd Online News Paper