চাল পেঁয়াজ সবজি পর্যাপ্ত তবু বাজারে আগুন: মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও বিক্রেতারা সবজির চড়া দাম হাঁকছে। অভিযোগ উঠেছে, আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশের কারণে যতটুকু দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো সবজি দেখলে কারোর মনে হবে না সবজির সংকট রয়েছে। তবে কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুতই সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম অর্ধেকের বেশি কমে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করার অপচেষ্টা রোধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছে। গত সোমবার(১৫জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গত সোমবার(১৫জানুয়ারি) দেখানো পরিসংখ্যান মতে, গত এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৩.২৯ শতাংশ, মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২২.৩৫ শতাংশ এবং সরু চালের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। গতকাল দেখানো তথ্য মতে, এই তিন জাতের চালের দরই এক মাস ধরে একই স্থানে রয়েছে; অর্থাৎ দাম বৃদ্ধির পর আর কমেনি। মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, মাঝারি ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা এবং সাধারণ মানের সরু ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির তথ্য অনুসারে, ঠিক এক মাস আগেও ১৫ ডিসেম্বরও তিন ধরনের চালের এই দরই ছিল। কালের কণ্ঠ থেকে গতকাল বাজারে খোঁজ নিয়েও এই ধরনের দর দেখা যায়।

গত সোমবার(১৫জানুয়ারি) সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ চালের বাজার স্বাভাবিক এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ব্যবসায়ী নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, দেশের চাহিদা নির্ণয়, স্থানীয় উৎপাদন, মজুদ পরিস্থিতি, আমদানির পরিমাণ ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীলকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পেঁয়াজের বিপণনব্যবস্থায়ও সরকারের নজরদারি বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মেহেরপুর থেকে প্রচুর পরিমাণ সবজি নিয়মিত ঢাকার বাজারে আসে। ওই অঞ্চলে প্রচুর বাঁধাকপির চাষ হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কালের কণ্ঠ’র মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মেহেরপুর বড়বাজারে (এই বাজার থেকেই ঢাকায় সবজি সরবরাহ করা হয়) প্রতি পিস বাঁধাকপি পাইকারি বিক্রি হয়েছে তিন-চার টাকায়। অথচ ঢাকার পাইকারি বাজারে একই বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ১৫-২০ টাকায়। ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছতে এর দাম পৌঁছেছে ৩০-৩৫ টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:-