আলোচনার মেসির ‘আন্ডার দ্যা ওয়াল‘ শট

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: তার ফুটবল স্কিল নিয়ে সয়ং ফুটবল ঈশ্বরও প্রশ্ন তুলবে না। প্রতিনিয়ত তিনি নিজেকে ভাঙ্গছেন।বিতর্কিত ভাবে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয় তাকে। কেউ কেউ তাকে সর্বকালের সেরা মানছেন। এই প্রজন্মের অনেক ফুটবল অনুরাগী নিজেকে ধন্য মনে করছেন যে তারা মেসির যুগে জন্মগ্রহন করছেন।‘দ্যা কিং অব ড্রিবলিং মাষ্টার’ খ্যাত মেসি গোল করবেন, রেকর্ড করবেন এটা তো স্বাভাবিক বিষয়।

তিনি তো ফ্রি-কিকে বহু গোল করেছেন।প্রশ্ন উঠতেই পারে শনিবার জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে করা গোলেটি নিয়ে কেন এত আলোচনা? আলোচনা বিশেষ কিছু নিয়েই হয়, তাই নয় কি? হ্যাঁ, তিনি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসে নতুন শটের সৃষ্টি করেছেন যার নাম ‘আন্ডার দ্যা ওয়াল‘ শট।

জিরোনার বিপক্ষে লা লিগার সেই ম্যাচে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে জিরোনার ডি বক্সের বাইরে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। শটটা কে নেবেন তা বোঝাই যাচ্ছিল। মেসিই এগিয়ে এলেন ফ্রি-কিকটা নিতে। জিরোনার খেলোয়াড়েরাও মানবদেয়াল বানিয়ে তৈরি। কিন্তু মেসি সেই মানবদেয়ালকেই ফাঁকি দিলেন। মাথার উপর দিয়ে নয় পায়ের নিচ দিয়ে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এ গ্রহের সেরা তারকা সেটা করলেন।

এ ঘটনা মেসির কাছে প্রথম নয় এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘ফ্রি-কিক আন্ডার দ্য ওয়াল’ থেকে গোল করেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে; উরুগুয়ের বিপক্ষে। তবে বার্সার জার্সিতে ‘আন্ডার দ্যা ওয়াল‘ শটে মেসির এটা প্রথম গোল।

ফ্রি-কিকের ক্ষেত্রে ৯৬ শতাংশ সময়েই ‘মানবদেয়াল’-এর ভাবনা থাকে বলটা তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে মারা হবে। যার কারণে ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় ‘মানবদেয়াল’-এ দাঁড়ানো খেলোয়াড়েরা স্বাভাবিকভাবেই উপরের দিকে লাফ দেন, যেন বলটা তাঁদের মাথায় লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফ্রি-কিক মারা এবং ঠেকানোর এটাই প্রথাগত চিন্তা। কিন্তু পাঁচ বারের বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি হলে ভিন্ন কথা।তিনি করলেন কী, শট নিলেন জিরোনা ‘মানবদেয়াল’-এর নিচ দিয়ে!

জিরোনার খেলোয়াড়েরা যে লাফ দেবেন এটা তো মেসি আগেই জানতেন। তাই মাটি কামড়ানো শটে তাঁদের পায়ের তল দিয়ে বল পাঠিয়েছেন জালে। গোলরক্ষক ডান প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়লেও বেশি কিছু করতে পারেননি।

অনেক খেলোয়াড় যেখানে গোটা ক্যারিয়ারেই এমন একটা গোল করতে পারলেই বর্তে যান, সেখানে মেসির স্মিত উল্লাস। এমন গোল মেসি আগেও করেছেন। সে কারণেই কি এই আত্মনিয়ন্ত্রণ?