যে বোলারদের রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ না, তাদের হাত থেকে আগুনের গোলা বের হতো না কিংবা ঘূর্ণি ধাঁধাও নয়। কিন্তু তাদের রেকর্ড ভাঙা হয়তো আধো কখনো সম্ভব নয়। ব্রেট লি কিংবা শোয়েব আখতারের মতো গতি দানব তিনি ছিলেন না। জেসন গিলেস্পির মতো আগ্রাসীও ছিলেন না আবার ওয়াসিম আকরামের মতো সর্পিল সুয়িং ছিলো না তার বলে।ওয়াকার ইউনিসের মতো তূণে একগাদা তির নিয়েও মাঠে নামতেন না তিনি। তাঁর ছিল একটাই শক্তি, একাগ্রতা। যন্ত্রমানবের মতো একটানা বল করে যেতেন অফস্টাম্পের বাইরের ‘অনিশ্চয়তার করিডরে’। যেখানে বল করলে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানকেও দুবার ভাবতে হতো বলটি নিয়ে। এই সরল সোজা গড়পরতা বোলিং দিয়েই টেস্ট ক্রিকেটে ৫৬৩ উইকেট পেয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।পেস বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাবেক ক্যারিবিয়ান পেসার ও বর্তমান বাংলাদেশ দলের বোলিং গুরু কোর্টনি ওয়ালস।

এমনকি টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ দশ বোলারের মাঝে তাঁর ২১.৬৪ বোলিং গড়টাই সেরা।টেস্টে তিনি প্রতি উইকেট প্রতি খরচ করেছেন ৫১.৯ রান। তার সামনে আছে শুধু রিচার্ড হ্যাডলি। বর্তমান পেস বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুজন জেমস অ্যান্ডারসন(৪৩৩) ও ডেল স্টেইনই(৪০৬) চার শ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। দুজনের বয়সই ত্রিশের উপরে এবং নিয়মিত ইনজুরির কারনে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। এ ছাড়া অতিমাত্রায় টি-টোয়েন্টির আগ্রাসনের ফলে ইদানীং তো ক্রিকেটাররা টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিচ্ছেন খুব দ্রুত। সাদা পোশাকে পেস বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির চূড়া থেকে ম্যাকগ্রাকে নামানোটা তাই কঠিনই হবে।যদি কিন্তু হিসেবে হয়তো ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভাঙা সম্ভব। কিন্তু ইংলিশ অফস্পিনার জিল লেকারের!

এবার আসি লেকারের পালায় কোন রকম ভণিতা না করেই বলে দেওয়া যায়, এ রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৬ টেস্টে ১৯৩ উইকেট। ইনিংসে ৫ উইকেট ৯ বার। না, খুব আহামরি কিছু তো নয়।সর্বকালের সেরা দশ বোলার তো নয়ই সেরা দশ অফস্পিনারের তালিকায়ও তাকে রাখা খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।এছাড়া ইংল্যান্ডের বাইরে খুব একটা সফলও ছিলেন না তিনি। কিন্তু এসব তো শুধুই পরিসংখ্যান আর বিভিন্ন মাপকাঠিতে মাপা এক বোলারের কথা বলা হলো।

লেকারকে যে এসব পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। তিনি যে মাপকাঠির উর্ধ্বে। টেস্টের এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের সব উইকেট নেওয়া কী কারও পক্ষে সম্ভব নাকি? লেকারের রেকর্ড ভাঙতে হলে যে এ কাজটিই করতে হবে।অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট একজন বোলারকে নিতে হবে। আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৯ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে তৃতীয় উইকেটটি পেয়েছিলেন সতীর্থ টনি লক। ব্যস, এরপর আর স্কোর কার্ডে অন্য কোনো বোলারের নাম বসাতে দেননি লেকার। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ উইকেট। এক ম্যাচে ১৯ উইকেট, আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ তো বটেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এই কাজ করতে পারেনি কেউ। তাঁর সবচেয়ে কাছে আছেন যিনি সেই সিডনি বার্নসের ১৭ উইকেটের ঘটনাও ১০২ বছরের পুরোনো। তাই বিরাট বড় এক ঝুঁকি নিয়েই ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়, লেকার কীর্তি কোনদিন কেউ ভাঙতে পারবেন না।