সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থবহ নির্বাচন হবে। আর এ নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টির (জাপা) সার্বিক সহযোগিতার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামীতেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি (জাপা) একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার রাতে গণভবনে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের আলোচনায় সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংলাপের সময় নির্ধারণ ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এইচএম এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতারা গণভবনে আসেন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই সংলাপ শুরু হয়। রাত ৯টা ৫ মিনিটে সংলাপ শেষ হয়। সংলাপের শুরুতে এইচএম এরশাদ ও রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘জোটগতভাবে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচন করবে। জোটগতভাবে সরকারও গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, আইনসম্মতভাবে, সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন হবে। এ বিষয়ে ১৪ দল ও জাপা একমত। তবে আসন বণ্টনের বিষয়টি ১৪ দলের মত জাপার সঙ্গেও হয়নি। আসন বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে একটি ছোট কমিটি করে সমাধান করা হবে। সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, তার দলের নেতারা গণভবনে সংলাপ করতে আসেননি। এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে, সেটি সফলভাবে হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অনেকটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এরশাদ বলেন, কোনো সংলাপ হয়নি। আসন চূড়ান্ত হয়নি। ৩০ জন মানুষ নিয়ে কী আসনের কথা বলা যায় নাকি? জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, সংলাপে সুনির্দিষ্ট কোনও দাবি জানাইনি আমরা। সংবিধানের আলোকেই নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আগামী নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি ছাড়াও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে।’ জিএম কাদের বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে যাবে না জাপা। বিএনপি নির্বাচনে না এলে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাপা। সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে নির্বাচন করা হবে।’
আলোচনায় ১৪ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতৃত্ব দেন এইচএম এরশাদ। সূচনা বক্তৃতায় দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি প্রদেশকে স্বাধীন দেশে পরিণত করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে তিনি উন্নতির পথে নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গেছেন। জাতির পিতা বাংলাদেশকে যে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গেছে সেখান থেকে আমরা দেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি, জাতির পিতার আদর্শের পথ ধরে। তিনি বলেন, আমাদের এ পথযাত্রায় আপনারা জাতীয় পার্টি (জাপা) পাশে ছিলেন, আমাদের সাথে ছিলেন, আমরা একসাথে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনেও তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সব দলের সাথে মতবিনিময় করছি।
সংলাপ শেষে রাতে জাপার চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে সংলাপ বিষয়ে ব্রিফ করবেন দলের শীর্ষ নেতারা। সংলাপে এইচএম এরশাদ ছাড়াও প্রতিনিধি দলে জাপা নেতাদের মধ্যে ছিলেন রওশন এরশাদ, জিএম কাদের, এবিএম রহুল আমিন হাওলাদার, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ ছাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম, মজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মসিউর রহমান রাঙা, আজম খান, সোলায়মান আলম শেঠ, আতিকুর রহমান আতিক, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি ও নুরুল ইসলাম ওমর। আর জোট শরিকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান ও মহাসচিব এমএ মতিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাহফুজুল হক ও যুগ্ম মহাসচিব জালাল আহমেদ, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক ও বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি।
সংলাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট শরিক দলগুলোর নেতারাও রয়েছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য জাপা প্রস্তুত: তোফায়েল
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টি প্রস্তুত। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনাও সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, সংলাপে আসন ভাগাভাগি নিয়ে উভয় দলের নেতারা আলাপ করেছেন। জানা গেছে, সংলাপে এইচএম এরশাদ এবং বেগম রওশন এরশাদসহ দলের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে এ সংলাপ শেষ হয়।
এর আগে গত ১ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং গত ২ নভেম্বর অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার গণভবনে আলোচনায় যাবে ইসলামী ঐক্যজোট ও বাম গণতান্ত্রিক জোট। দুপুর ২টায় ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে আলোচনা হবে। আগামীকাল বুধবার গণভবনে বেলা ১১টায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper