তফসিল ঘোষণার সময় থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম। গত ১২ নভেম্বর সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে যে সরকার আছে, এটিই নির্বাচনকালীন সরকার। আর আইন পাসের ব্যাপারটি এই সরকারের রুটিন ওয়ার্কের মধ্যেই পড়ে। আইন করা তো রেগুলার সরকারের কাজ-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তো রেগুলারই আছে, কোনো সমস্যা তো দেখছি না। নির্বাচনকালীন সরকার এটা তো আমাদের দেওয়া নামই, সাংবিধানিক নাম নয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম করা হয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি সংস্থা। শুরুতে এটি ১৯৭৩ সালের একটি রেজ্যুলেশন দিয়ে চলছিল। ১৯৮২ সালে ট্যারিফ কমিশন আইন হয়। এবার সেই আইনের কিছু সংশোধন হয়েছে। বিশ্ব-বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে এর কার্যাবলী নির্ধারণের জন্যই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই নামের বিষয়ে ব্যবসায়ীদেরও মতামত ছিল বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেইলার সরাসরি ভারতের আগরতলা পর্যন্ত যেতে পারবে। সীমান্তে ট্রাক বদলের প্রয়োজন হবে না। গতকাল মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত অ্যামেন্ডমেন্ট টু দ্য প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড এর খসড়ার ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-আগরতলা সরাসরি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুরু হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য দিয়ে বলেন, এই খসড়ায় আরও কয়েকটি বিষয়ের উল্লেখ আছে।

তিনি বলেন, নৌ চলাচল সহজ করতে ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করবে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত এই নদীপথ খনন করতে ভারত ৮০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকার ২০ শতাংশ খরচ বহন করবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে নৌ প্রটোকল, এখানে পোর্ট অব কল হিসেবে বাংলাদেশের পানগাঁও ও ভারতের আসামের ধুবড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নো-ম্যান্স এরিয়াতে প্রয়োজনে বিজিবি এবং বিএসএফ’র সহযোগিতায় ইমার্জেন্সি সার্ভিস গ্রহণ, ক্রু বা নাবিকদের মরদেহ সহজে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান সচিব। তিনি জানান, বাংলাদেশের ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রেইলার ভারতের অভ্যন্তরে আগরতলা আইসিবি পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করা হয়েছে। সংশোধিত প্রটোকল অনুযায়ী, সেখানে আনলোড করার বিষয়টি রয়েছে।