সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ সিলেটের চার জেলার ১শ’৩১ কেন্দ্রে ০২ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা। যাতে সিলেট বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছেন ৮৯৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ৮৩৫ জন বেশি। গত বছর সিলেটে অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৯ হজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি অংশ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।
শনিবার বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের কারণে এ বছর পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হবে বলে শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস জানান, পরীক্ষা গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে কাজ করবে ৩১টি ভিজিল্যান্স টিম। এছাড়া জেলাগুলোতেও টিম গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক্স ডিভাউস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিবকেও এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হবে, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না।’
শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি ৪১ হাজার ৭৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছেলে ১৮ হাজার ৩২৫ এবং মেয়ে ২৩ হাজার ৪১৭ জন। হবিগঞ্জ জেলার পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২১ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে ছেলে ৯ হাজার ৫৬৯ জন এবং মেয়ে ১২ হাজার ২৫৬ জন।
মৌলভীবাজারের ২৪ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মধ্যে ছেলে ৯ হাজার ৯৭২ জন এবং মেয়ে ১৪ হাজার ৭১৩ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলার ২৪ হাজার ৭৬৩ জনের এর মধ্যে ছাত্র ১১ হাজার ৬২ জন এবং ছাত্রী ১৩ হাজার ৭০১ জন।
অন্যদিকে এবার পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেড়েছে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যাও। এ বছর সিলেট অঞ্চলের চার জেলায় ৮৯৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮৯২টি। তবে, কেন্দ্র সংখ্যা বাড়েনি। এবারো ১৩১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
এসএসসিতে প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না।
শুধুমাত্র বেসিক ট্রেড বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না।
এবারের পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন।
২০১৮ সালের তুলনায় এবছর এক লাখ ৩ হাজার ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী বেশি পরীক্ষা দেবেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ হাজার ২২৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ হাজার ২০৫ জন।
এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষাথীর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি ভোকেশনাল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন রয়েছে। মোটে কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭ এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮২ টি। এছাড়াও বিদেশি আটটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩৪ জন্য পরীক্ষাথী রয়েছে।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও সবার পরীক্ষা ১০ থেকে ১টা এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার্থীকে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper