সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি আব্দুল মাজেদ দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।
তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সে একটা দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ছাড়া যারা বিদেশে ছিলেন, বাকি সবাইকে হত্যা করে ফেলেছিল। সমস্ত বাঙালি জাতি আজকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের গ্রেফতারের খবর শুনে ভীষণ উল্লসিত ও আনন্দিত। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, একটি স্বপ্নকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, ক্যাপ্টেন মাজেদ ছিল তাদের একজন।
তিনি বলেন, খুুনি মাজেদ আমার এপিএস ১৯৭৩ ব্যাচের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিকুল আলম মিন্টু, তাকে গ্রেফতার করে, নির্যাতন করে তাকে হত্যা করে তার লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।’ ‘আমি যখন ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি। তখন শুনেছিলাম একটি আওয়াজ যে শফিকুল আলম মিন্টু নামে কেউ আছে কি না। আমি বুঝতে পেরেছিলাম। কারণ খুনি মাজেদ আমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে তুলে নিয়েছিল।’
কে এই আবদুল মাজেদঃ
আবদুল মাজেদ একজন সাবেক বাংলাদেশী সামরিক অফিসার যিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের জন্য আত্মস্বীকৃত … ১৯৭৫ সালে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল মাজেদকে সেনেগালের দূতাবাসে বদলি করেন। … বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু হলে আত্মগোপনে চলে যান মাজেদ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ প্রথমে লিবিয়া ও পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন, তারপর কলকাতায়। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আবদুল মাজেদ নিজেকে ‘আবদুল মজিদ’ পরিচয় দিয়ে অবস্থান করেছেন প্রায় ২৫ বছর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আতঙ্কে বাংলাদেশে ফিরে গ্রেফতার হয়েছেন সেই আবদুল মাজেদ। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও জারি রয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি তিনি ভারত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন মাজেদ– এই তথ্যের সূত্রে ঢাকার মিরপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। মাজেদ শুধু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডেই অংশগ্রহণ করেননি– ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কারাগারে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত জাতীয় চার নেতার হত্যাতেও অংশ নিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে আবদুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার সিএমএম আদালত। পুলিশ মাজেদকে আদালতে তোলে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, ”বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর এত দিন আপনি কোথায় ছিলেন? জবাবে খুনি মাজেদ বলেন, ২২-২৩ বছর তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন। সেখান থেকে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।”
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবদুল মাজেদ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে, ভারত থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে যান লিবিয়ায়। সেখান থেকে আসেন পাকিস্তানে। লিবিয়া ও পাকিস্তানে সুবিধা করতে না পেরে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। কলকাতায় থাকার সময় মাজেদ তেমন কিছু করতেন না। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগযোগও ছিল নিয়মিত। মার্চের মাঝামাঝি ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফেরার পর মিরপুরের বাসায় ওঠেন।
আবদুল মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া যান। পরে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান তাঁকে সেনেগালের দূতাবাসে নিযুক্ত করেন। ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসার পর মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে উপসচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ করা হয়। পরে তিনি আরও কিছুদিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ অধিকার করে ছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরুর সময়ে পালিয়ে যান মাজেদ।
বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৫ বছর ও রায়ের ২২ বছর পর মঙ্গলবার মাজেদকে ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। বুধবার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর মাজেদের রায় কার্যকর করার জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদালত।
Sylhetnewsbd Online News Paper