সিলেটের ওসমাননীগর উপজেলায় পল্লি বিদ্যুতের গ্রাহক ভূগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতহীন হয়ে পরে পুরো উপজেলা। এতে করে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রমজান মাস শুরুর পর থেকে এই উপজেলায় বিদ্যুৎ ভূূগান্তি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে তারাবি ও সেহরির সময় বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
ফলে প্রচন্ড গরমের মধ্যে গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। কোন ধরণের ঝড় বৃষ্টি না থাকার পরও ইফতার,সাহরি কিংবা তারাবি নামাজে বিদ্যুতহীন থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষেভে ফুসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর অধিনের ওসমানীনগর উপজেলার খাশিখাপন জোনাল অফিসের গাফলাতির কারণে গ্রাহক ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি এই অফিসে যোগদান করেছেন নতুন ডিজিএম(ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মুজিবুর রহমান। তার যোগদানের পর থেকে এই উপজেলায় বিদ্যুৎ ভূগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অনেকেই ফেসবুকে নব নিজুক্ত এই কর্মকর্তার সমালোচনা করে কাশিকাপন জোনাল অফিসকে গ্রাহক সেবা দানে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার দাবি জানান। সামান্য বৃষ্টি হলেই কোন কোন এলাকায় ৩/৪দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকে। বার বার খাশিখাপন জোনাল অফিসে যোগাযোগ করার পরও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় অনেকেই।
জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলায়। রমাজন মাস আসার সাথে সাথেই উপজেলা জুরে শুরু হয়েছে পল্লি বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। রামজানে এবং ভ্যাপসা গরমে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পরড়েছে গ্রহকদের জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা চরম ক্ষুব্ধ। রাত ১২টার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ গেলে আসে পর দিন সকালে। এমন পরিস্থিতিতে সাহরির সময় অন্ধকারের মধ্যে রান্না-বান্নাসহ খাওয়া-দাওয়ার কাজ করতে হচ্ছে। একটু বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই উধাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোজাদারসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।
স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ভোগান্তি ওসমানীনগরে এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ের কারণে কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির মোটর, ফটোকপি মেশিনসহ বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যাবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে লোকশান গুনতে হবে ব্যাবসায়ীদের। সম্প্রতি দিনরাতে পনেরো-ষোলবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে। কোন কোন সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। আবার সংযোগ দিলেও কিছুক্ষণ পর তা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল উপজেলায় গোয়ালাবাজার সরকারি মহিলা কলেজের পাশে এক প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বৈদ্যতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পাশে অবস্থিত বৈধ্যতিক খুঁটির সাথে থাকা মেটাল তারের টানাতে গাড়ির ধাক্কা লাগে। ধাক্কা লাগার সাথে সাথেই দুটি টান্সমিটারসহ খুটি গাড়িতে পড়ে যায়। গাড়িতে থাকা যাত্রীরা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গাড়িটির।
ঘঠনাস্থল পরিদর্শন করেন কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডিজিএম মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চলকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোরে ফলে ব্রেক ফেল করে বৈদ্যতিক খুঁটি ভেঙ্গে ফেলে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন উপজেলার একাধিক স্থানে এমন লক্ষর জক্কর বৈদ্যতিক খুঁটি রয়েছে। সেগুলো অপসারনের ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার গোয়ালাবাজারের কাপর ব্যাবসায়ী সজিব কুমার জানান, ঈদকে সামনে রেখেই আমাদের বেচা কেনার সময়। গভির রাত পর্যস্ত ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের জিনিপত্র কিনছেন। কোন ধরণের ঝড় বৃষ্টি না থাকার পরও বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে ক্রেতারা দোকানে বসতে পারেন না। ফলে আমরা ঠিক মতো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছি না। আগামী ঈদ পর্যন্ত নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সিলেট জেলা মোটর সাইকেল ইঞ্জিনিয়ার এসসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিদা নিশ্চিত করার ঘোষনা দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও এর আগে বলা হয়েছে পবিত্র রমাজান মাসে তিনটি সময় ইফতার, তারাব নামাজ ও সাহরির সময় কোন লোডশেডিং থাকবে না। এর পরও কেন লোডশেডিং হচ্ছে আমার বুঝতে পারছি না। পল্লি বিদ্যুতের কতিপয় কিছু কর্মচারীর গাফলাতির কারলে আমাদের জনসাধনণের মধ্য বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে এসছে।
সার্বিক বিষয়ে কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডিজিএম মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ঝড়ের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছিল । আর তা অতি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করছি। ওসমানীনগরে বিদ্যুৎ ভোগান্তি নেই।
Sylhetnewsbd Online News Paper