সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ সারা দেশে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৫ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া। ঢাকায় এ নিয়ে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আসংখ্যা করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধঃ
বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার রাত নয়টা থেকে হঠাৎ করেই ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং মোবাইল ইন্টারনেটসহ কোন ধরনের ইন্টারনেট সার্ভিসই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট না থাকায় নিউজ আপডেটও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকেও একই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাত সাড়ে আটটা থেকে ইন্টারনেটের গতি ধীর হওয়া শুরু করে।এরপর নয়টা থেকে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। একাধিক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার সেবা বিঘ্নিত হওয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এর পেছনে কোন কারণ তারা বলেননি এবং কখন নাগাদ ইন্টারনেট পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেন নি তারা। দেশের বিভিন্ন জেলায় ও একই অবস্থার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
গত কয়েকদিনের চলমান কোটা আন্দোলনের সহিংসতামূলক ঘটনার সময় বুধবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাহত ছিল ইন্টারনেট সেবা।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভিতে দুপুরে আগুন লাগার পর ভেতরে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভিতরে আটকা পড়েছেন অনেকে। ঢাকার রামপুরায় বিটিভির কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা হলেও তারা এখন আসতে পারে নি। ফলে ভবনের ভেতরে আগুন এখনও নেভেনি। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে আন্দোলনকারীরা ভবনটি দখলে নিতে চেষ্টা করছে।
তারা জানিয়েছেন, বিজিবির সদস্যরা সেখানে রয়েছে। তবে তারা নিজেদের রক্ষা করতে ব্যস্ত। অনেকেই বের হয়ে পালাতে পেরেছে। তবে এখনো কতজন ভবনটির ভেতরে রয়েছে তা তারা নিশ্চিত করতে পারেন নি। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। তবে, বিটিভির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করলেও এ বিষয়ে এখন কথা বলতে চান নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ফারুক আহমেদ বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিক্ষোভকারীদের পুলিশের সংঘর্ষে শুক্রবার ঢাকায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এদের একজন যাত্রাবাড়ীতে এবং অপরজন ঢাকার রামপুরায়। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিজেদের কার্যালয়ে সমাবেশ করতে পারবে। এর বাইরে ঢাকার অন্য কোন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করা নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি।
পল্টন, বিজয় নগর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ
ঢাকার পল্টন, বিজয় নগর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। শুক্রবার সকাল থেকেই এসব এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। দুপুরে নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখতে পান বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা। ভেতরে এগিয়ে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। এসময় বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি এলাকা থেকে মুহুর্মুহু ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ও গলিতে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান দেখা গেছে। সমগ্র এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে ভাঙা ইট, গাছের ডাল, বিজ্ঞাপনী বোর্ড পড়ে আছে। পুলিশ দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এখানে বেশ কিছু আন্দোলনকারী ও পুলিশ আহত হয়েছেন। অনেকেই আশেপাশে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানতে পেরেছে বিবিসি বাংলা। তবে আহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার জন্য সরকার অপেক্ষা করছে। “আমি নিশ্চিত তারাও বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করছেন যে তারা আলোচনায় আসবেন কী না। তারা যখন যে সময় আলোচনায় আসতে চান আমরা তখনই আলোচনায় বসতে রাজি আছি। ” আন্দোলকারীদের সাথে সরকারের তরফ থেকে সরাসরি কোন যোগাযোগ করা হয়েছে কী না? আইনমন্ত্রী বলেন, “সরাসরি যোগাযোগ করার তো প্রশ্ন আসে না। মিডিয়ার মাধ্যমে সে বার্তা দেয়া হয়েছে। এটা তো আমরা পাবলিকলি বলে দিয়েছি।” আন্দোলনকারীরা সরকারের আলোচনার আহবান ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সংঘাতও অব্যাহত আছে। আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই সহিংসতা কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা করে নাই। এটা আমার বিশ্বাস হয়না।” আন্দোলনকারীরা বলছেন, পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে তাদের হঠিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। “পুলিশ গতকাল কোন শক্তি প্রয়োগ করে নাই। যখন নাশকতা হয় তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্যই হচ্ছে নাশকতা বন্ধ করা,” বলেন আইনমন্ত্রী। পুলিশ শক্তি প্রয়োগ না করলে বৃহস্পতিবার এতো মানুষ নিহত হলো কেন? এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “ আমি এই ফিগারের (সংখ্যা) সাথে ঐকমত্য পোষণ করতে পারছি না। পুলিশ কালকে কোন গুলি চালায় নাই, পুলিশের গুলিতে কেউ নিহত হয় নাই।”
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং পুলিশের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে। ‘দ্য রেজিসটেন্স’ নামে একটি গোষ্ঠি দুটি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওয়েবসাইট দুটিতে কালো ব্যানারে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে বার্তা লেখা রয়েছে ‘শিক্ষার্থী হত্যা বন্ধ করুন’।
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় চলমান সংঘাত-সংঘর্ষে শুক্রবার অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিকটস্থ ফরায়েজী হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রুবেল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল ছোঁড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। মি. হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি।
Sylhetnewsbd Online News Paper