কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিক্ষোভে এপর্যন্ত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করলে সরকারের পুলিশ এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের উপর গুলি চালায়। সরকারের ছাত্রলীগ নামক এই সংগঠনটিকে হেমলেট বাহিনী বলা হয়ে থাকে, কারন যেকোন আন্দোলন কর্মসূচীতে তারা সরকারের হয়ে পুলিশের সাথে হেমলেট পরে নির্বিচারে গুলি চালায়। ছাত্রদের আন্দোলন যৌক্তিক, তাদের আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কারের জন্য, কিন্তু শান্ত সৃষ্ট এই আন্দোলনে রাজাকারের তোকমা দিয়ে উসকে দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মতে আন্দোলনকারী ছাত্ররা রাজাকারদের সন্তান। একই বক্তব্য প্রধান করে তার দলের অন্যান্য মন্ত্রিরাও। ওবায়দুল কাদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির আহবান জানান, অন্য মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধাদের ছাত্রদের প্রতিপক্ষ করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা করেন। বুধবার অপর এক ভাষণে শেখ হাসিনা ছাত্রদের দাবী আদালতে সমাধান হবে বলে জানান।

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে লন্ডনে ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন। বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ সমর্থকদের মধ্যে সঙ্ঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে প্রবাসীরা লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করে। হোয়াইটচ্যাপেল আলতাব আলী পার্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ চলছিল। এমন সময় বাংলাদেশ সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ কর্মীরা তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে উসকানি প্রদান করে তাদের নিজস্ব আশ্রয়স্থল মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে অবস্থান নেয়। প্রতিবাদে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরা মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগ কর্মীদের দাওয়া করলে তারাও সেখান থেকে ইট পাটকেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের উপর। বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা চাকরিতে তাদের মেধা মূল্যায়ন এবং বিশেষ কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছিল। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বক্তব্যে ছাত্র ছাত্রীদেরকে রাজাকার তকমা দিয়ে গালি প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে দেশ জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরি অত্যন্ত লোভনীয় কারণ তারা ভাল বেতন দেয়। মোট, অর্ধেকেরও বেশি পদ – কয়েক হাজার চাকরির পরিমাণ – নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত। সমালোচকরা বলছেন যে এই ব্যবস্থা অন্যায়ভাবে সরকার সমর্থক গোষ্ঠীর পরিবারগুলিকে উপকৃত করে যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে, যিনি জানুয়ারিতে জোরপূর্বক টানা চতুর্থ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা যুদ্ধ বীরদের আত্মীয়দের জন্য সরকারি খাতের কিছু চাকরি সংরক্ষণের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে সমাবেশ করে আসছে।কিছু চাকরি নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যও সংরক্ষিত। পোস্টের এক তৃতীয়াংশ যুদ্ধ বীরদের শ্রেণীভুক্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেয় যে সিস্টেমটি বৈষম্যমূলক, এবং তারা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চায়।

সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে কোটা বাতিল করে কেবল ‘অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ’ রেখে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী– এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে চালু হওয়া প্রথম কোটা ব্যবস্থায় এই পরিমাণ ছিল আরও বেশি।