সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ রাজধানীর উত্তরার ডিয়া বাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সেসময় প্রতিষ্ঠানের ২২ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আহত হন ৫১ জন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১ টা ৪৫ মিনিটের সময় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম এক লিখিত বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহতদের মধ্যে স্কুল শাখার ছিল ১৮ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ছিলেন ২ জন এবং অভিভাবক ছিলেন ২ জন। এছাড়াও এ দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন ৫১ জন। এদের মধ্যে ৪০ শিক্ষার্থী, ৭ জন শিক্ষক, ১ জন অভিভাবক, ১ জন আয়া ও ১ জন পিয়ন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে ৫ জন। যাদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন অভিভাবক।
জিয়াউল আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২১ জুলাই আনুমানিক বেলা ১টা ১২ মিনিট থেকে ১টা ১৪ মিনিটের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডিয়াবাড়ি স্থায়ী ক্যাম্পাসে একটি দোতলা ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়। বেলা ১টায় স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় তখন অভিভাবকদের জন্য শুধু স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী অপেক্ষারত অবস্থায় ছিল। এ সময়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তিনি বলেন, এমন ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ হতবিহ্বল, স্তব্ধ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে মুহুর্তের মধ্যে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও এলাকাবাসী উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও র্যাবের প্রশিক্ষিত জনবল সম্মিলিতভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের স্কুল শাখার ১৮ জন শিক্ষার্থী, ২ জন শিক্ষক, ২ জন অভিভাবক মৃত্যুবরণ করেন। এ দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন ৫১ জন। এদের মধ্যে ৪০ জন শিক্ষার্থী, ৭ জন শিক্ষক, ১ জন অভিভাবক, ১ জন আয়া ও ১ জন পিয়ন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে- ৫ জন, যাদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন অভিভাবক।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ২২ জুলাই ২০২৫ এ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শুধু এ প্রতিষ্ঠানে নিহত, আহত ও নিখোঁজের তথ্য তুলে ধরছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য হালনাগাদকরণের কাজ চলমান। এই দুঃখজনক ঘটনায় হতাহতের সর্বমোট সংখ্যা তুলে ধরছে আইএসপিআর।
হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আহতদের চিকিৎসাসহ সকল প্রয়োজনে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ সবর্দা পাশে রয়েছে।
আমাদের শিক্ষার্থী ও সন্তান হারানোর এই চরম শোকসন্তপ্ত অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, অভিভাবকবৃন্দ, এলাকাবাসীসহ পুরো জাতি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়।
প্রত্যেকেই তাদের অবস্থান থেকে সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুতরভাবে আহতদের উন্নত ও সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ব্যাপারে চিকিৎসা ও সেবাকার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি জরুরি সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
দুর্ঘটনার প্রথম থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার, যোগাযোগ, সেবা, চিকিৎসাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা মানবিকতার হাত বাড়িয়েছেন সেসকল ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি সকল গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি, যারা মর্মান্তিক এই ঘটনাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের দৃষ্টিগোচর করেছেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper