সিলেট নিউজ বিডি: স্কুলে দুষ্টুমি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য ১৩ বছর বয়সে যে শিশুটিকে সামরিক অ্যাকাডেমিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তার বাবা। সেই শিশুটিই আজ বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। পাঠকদের প্রশ্ন থাকতে পারে কে সেই শিশুটি? তিনি আর কেউ নন। যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিউ ইর্য়কের ধনকুবের, সম্পত্তি ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্পের চতুর্থ সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিবারের অগাধ অর্থসম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাবার প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে নিচু পদে কাজের সুযোগ হয় তার।
তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোর্য়াটন স্কুলে লেখাপড়া করেন এবং তার বড় ভাই ফ্রেড পাইলট হবার সিদ্ধান্ত নিলে বাবা ট্রাম্পকেই ব্যবসায়ে তার উত্তরসূরী নির্বাচন করেন। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তার বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প মারা যান। সেই অভিজ্ঞতা থেকে জীবনে মদ ও সিগারেট মুখে দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছেন, বাবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে তিনি নিজেই দশ লাখ ডলার ঋণ নিয়ে সম্পত্তির ব্যবসা শুরু করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক শহরের বিভিন্ন পৌর এলাকায় ছড়ানো তার বাবার বিপুল পরিমাণ আবাসিক সম্পত্তি দেখাশোনার কাজেও সহায়তা করতেন। ক্রমে তিনি বাবার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯৯ সালে তার বাবাকে হারান।
এরপর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি ব্যাবসাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে দাঁড় করান। ম্যানহাটানের অভিজাত রাস্তায় নির্মাণ করেন তার সবচেয়ে চোখধাঁধাঁনো ৬৮তলা ভবন- ট্রাম্প টাওয়ার। নিজের নাম দিয়ে আরও বহু বিখ্যাত ভবন তিনি গড়ে তোলেন। ট্রাম্প প্লেস, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ার, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশানাল হোটেল অ্যান্ড টাওয়ার এর মধ্যে অন্যতম। এমনকী মুম্বাই, ইস্তানবুল এবং ফিলিপিন্সেও তিনি তৈরি করেছেন ট্রাম্প টাওয়ার।
এমনকি বিনোদন ব্যবসাতেও তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব রাজত্ব । তিনি বেশ কিছু বইও লিখেছেন।
তার একটি ব্যবসায় টাই থেকে বোতলে ভরা পানি সবই বেচেন তিনি। ফবর্স-এর তৈরি ধনীদের তালিকা অনুযায়ী মিঃ ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ৩৭০কোটি ডলার। যদিও মিঃ ট্রাম্প অনেকবার জোর দিয়ে বলেছেন তার সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলার।
ট্রাম্প বিয়ে করেছেন তিনবার। ১৯৯০ সালে তাদের বিয়ে ভেঙে গেলে ১৯৯৩ সালে তিনি মারলা মেপলসকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়েও ভেঙে যায় ১৯৯৯ সালে। এরপর ২০০৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিয়ে করেন তার বর্তমান স্ত্রী, মডেল মেলানিয়া ক্নাউসকে। তাদের একটি পুত্রসন্তান আছে ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প নামে।
মিঃ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন ১৯৮৭ সালে। এমনকী রিফর্ম পার্টির প্রার্থী হিসাবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন ২০০০ সালে।
এতসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ট্রাম্প ২০১৫ সালের জুন মাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
‘মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’ ‘আমেরিকাকে আবার মহান করুন’ এই শ্লোগান দিয়ে তিনি প্রচারে নামেন।
তার প্রচারে আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি যেমন তিনি দিয়েছেন, পাশাপাশি মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দেয়াল তুলে দেওয়া এবং মুসলমানদের অভিবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া, সবশেষ নারীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মিঃ ট্রাম্প।
অবশেষে বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের মুকুট মাথায় নিয়ে সকল জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটালেন আমেরিকার ধনকুবের বনে যাওয়া সেই শিশুটি, যিনি আজকের ট্রাম্প।
Sylhetnewsbd Online News Paper