উচ্চশিক্ষায় তুরস্কে আকর্ষনীয় বৃত্তি; জেনে নিন আবেদনের প্রক্রিয়া

সিলেট নিউজ বিডিঃ উপরের শিরোনামে গত ১৩ জানুয়ারি প্রবাস কথা’র শিক্ষা বিভাগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এই আবেদন প্রক্রিয়াটি চলবে ১৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। তবে এই আবেদনের সময়টি কেবল মাত্র মাস্টার্স ও পি.এইচ.ডি. করতে আগ্রহীদের জন্য। এরপর অনেক শিক্ষার্থী তুরস্কে উচ্চশিক্ষায় এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও জানতে চান অনেকেই। এরই প্রেক্ষিতে তুরস্কের আংকারায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী মোবাশ্বেরা জাহান ফাতিমা তুরস্কে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। বুঝার সুবিধার্থে আগ্রহীরা আগের প্রতিবেদনটি পড়ে নিতে পারেন।
ইতিমধ্যে অনেকেই হয়তো তুরস্ক সরকারের বৃত্তির জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আবার অনেকেই হয়তো এখনো শুরু করার কথা ভাবছেন। আজকের আলোচনা মূলত: আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে। তুরস্ক সরকারের বৃত্তির আবেদনের প্রধান সুবিধাটি হচ্ছে, সব কিছু অনলাইনভিত্তিক এবং আপনি নিজেই সবকিছু পূরণ করতে পারবেন। কোন এজেন্সীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর বিরক্তিকর দিক যদি বলি, তবে বলতে হয়- অনেকগুলো ধাপ পূরণ করতে হয়। তাই একটু ধৈর্যহারা হয়ে উঠতে পারেন বটে!
আবেদনেপত্র পূরণে যে সব বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন:
১. আবেদনের শুরুতেই আপনাকে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। এটি খোলার সাথে সাথেই আপনার কাছে একটি একাউন্ট এ্যাক্টিভ্যাশন ই-মেইল আসবে। এরপর শুরু হবে তথ্য আপলোডের পালা। আপলোডকৃত সব ডকুমেন্ট এর স্ক্যান করে সফট কপি করে নিতে হবে আগেই।
২. ব্যক্তিগত তথ্য দিয়েই শুরু। এরপর বাবা-মা, ভাই-বোন সম্পর্কে তথ্য দিতে হয়।
৩. যেসব ঘরে লাল চিহ্ন দেয়া সেই তথ্যগুলো অবশই পূরণ করতে হবে। কারণ, এগুলো পূরণ না করে আপনি পরের ধাপে যেতে পারবেন না।
৪. একাডেমিক তথ্যের ঘরে প্রথম ঘরটিতে আপনার কলেজের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট আপলোড করবেন। এভাবে অনার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেটও আপলোড করবেন। পি.এইচ.ডি’র জন্য আবেদন করলে মাস্টার্সের ডকুমেন্টগুলোও একইভাবে আপলোড করবেন।
৫. ডকুমেন্টগুলোর একটি নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি যে ঘরে আপলোড করবেন সেখানে লেখা থাকে। তাই যদি ডকুমেন্ট আপলোড হতে না চায়, তবে আকার আকৃতি ঠিক আছে কি না দেখুন।
৬. সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর ডকুমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কতদিন তাদের সাথে কাজ করেছেন তার তারিখ উল্লেখ করতে হয়। আর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে সেটাও একইভাবে দিন তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
৭. আপনার আপলোডকৃত তথ্যের উপরই আপনার বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ভর করছে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দিতে ভুল করবেন না।
৮. এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত এমন ১২ টি বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের সুযোগ আছে আপনার। (তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু শর্ত থাকে। যেমন : এজঊ, এগঅঞ ইত্যাদি চেয়ে থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।)
৯. এমন ব্যক্তির কাছ থেকে রেফারেন্স লেটার নেবেন যিনি আপনাকে ভালেভাবে জানেন এবং আপনার আবেদনের বিষয়টি সম্পর্কে তাকেও জানিয়ে রাখুন। কারণ, তার কাছে একটি মেইল পাঠানো হবে যেটার উত্তর তাকে দিতে হবে।
১০. শেষের দিকে আপনার জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) আপলোড করতে হবে।

১১. লেটার অফ ইনটেন্ট নিদিষ্ট শব্দের মধ্যে লিখতে হবে। তাই অপ্রয়োজনীয় বাক্য বাদ দেবেন।
১২. ভাষা আপনি পাল্টে নিতে পারেন হাতের ডানে উপরের দিকের একটি অপশন থেকে।
১৩. সব ডকুমেন্ট আপলোড করে সেভ করতে ভুলবেন না। আর যখন সব ধাপ পূরণ করা শেষ হবে, তখন সব তথ্য আরও একবার যাচাই করে নিতে ভুলবেন না। সাবমিট অপশনে ক্লিক করার আগ পর্যন্ত আপনি যে কোন তথ্য সংযুক্ত কিংবা বাদ দিতে পারেন। তবে সাবমিট করার পর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আর সর্বশেষ পরামর্শ হচ্ছে, আবেদন ফরম মোবাইল থেকে নয় কম্পিউটার থেকে পূরণ করুন এবং গুগল ক্রোম ব্যবহার করুন। শেষের দিকে একটু সার্ভার ঝামেলা করে তাই এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। একটু বিরতি নিয়ে আবার চেষ্টা করুন।
সবার জন্য শুভকামনা। আর কেউ কেউ এই বৃত্তির আবেদনপত্র পূরণের নামে টাকা চাইছে শুনলাম। এই বিষয়ে সবাই সতর্ক থাকবেন আশা করি।