সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার নাঈম আশরাফের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
অন্যদিকে আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ জামান আসামি নাঈমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অন্যদিকে এ কর্মকর্তা আসামি সাফাত এবং সাদমানকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তি গ্রহণের আবেদন করেন।
পরে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী আসামি সাদমানের এবং মহানগর হাকিম আহসান হাবীব আসামি সাফাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২ মে সিএমএম আদালত আসামি সাফাতের ছয় দিন এবং সাদমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু আসামি নাঈমের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে আইনজীবী এবিএম খায়রুল ইসলাম আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।
মামলাটির অপর দুই আসামি আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে রিমান্ড রয়েছেন।
গত ১৬ মে আদালত আসামি বিল্লালের চার দিনের এবং আসামি রহমতের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
আসামিদের মধ্যে সাফাত ও নাঈম দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তারা ওই দুই ধর্ষিতা ছাত্রীর বন্ধু। অস্ত্রের মুখে তারা ওই দুই ছাত্রীকে জিম্মি করে হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও করে। আসামিদের অপর তিনজন ধর্ষণে সহায়তা ও ভিডিও ধারণ করে বলে মামলায় বলা হয়।
মামলায় বলা হয়, গত ২৮ মার্চ ঘটনার দিন আসামি সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের যান ওই দুই ছাত্রী। এরপর ওইদিন তাদের রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা আটকে রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ করার সময় আসামি সাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে বাসায় দেহরক্ষী রহমত আলীকে পাঠিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান। ধর্ষিতরা ভয়ে এবং লোকলজ্জার কারণে এবং মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তারা মামলার সিদ্ধান্ত নেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper