সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ওহাব আলী জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দু-পা অকেজো। বয়সের সাথে দেহের বৃদ্ধি হয়নি তেমন। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে চলতে শিখে গেছেন তিনি। কখনো হামাগুড়ি দিয়ে আবার কখনো নিজের তৈরি করা ৩ চাকার বেয়ারিং গাড়িতে চড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন কাজকর্ম। দু হাতে নিপুন ভাবে বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন ডালি, কুলা, হরপা। তার তৈরিকৃত জিনিসপত্র বাড়ি থেকেই বিক্রি করেন।
অবসর সময়ে বিকেল বেলা সুবলপাড় বাজারে বিক্রি করেন পান সুপারী। কিছু চাষের জমি আছে তার। সুস্থ সবল মানুষের মতো জমিতেও চাষ করেন তিনি। নিজের প্রতিবন্ধকতায় থেমে যাননি ওহাব আলী। মনোবল এবং ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জীবন গড়েছেন তিনি। স্বাবলম্বী হয়েছেন। পরিণত বয়সে বিয়ে করেছেন।
সাংসারিক কাজের ফাঁকে সামাজিক কাজেও অংশ নেন নিয়মিত। গ্রামের সকল সমস্যা সমাধানে আর দশজনের মতো তিনিও একজন সদস্য। অংশগ্রহণ করেন বিচার-সালিসে। প্রতিবন্ধী না ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ ভাবেন তিনি। নিজের গ্রাম এবং আশপাশের মানুষের কাছে বেশ সুস্থ ও সৎ মানুষ হিসেবে নাম কুরিয়েছেন।
ওহাব আলীর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের সুবলপাড় ৩নং ওয়ার্ডে। তিনি মৃত নইমুদ্দি ব্যাপারীর ছেলে। জায়গা জমি বাড়িভিটে প্রায় ৭-৮বিঘা।
একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম, দুলাল, একাব্বর বলেন, ‘আসলে ওহাব আলীকে আমরা কখনো প্রতিবন্ধী ভাবিনি। ছোট বয়স থেকে তার কাজকর্ম দেখে আসছি। তাকে সুস্থ-সবল মানুষ হিসেবে দেখি আমরা।’
ওহাব আলী বলেন, ‘বয়স ৪৫ পেরিয়েছে। এই অবস্থায় আগের মতো পরিশ্রম করতে পারিনা। এরপরেও স্ত্রী নুর বানু ও এক সন্তান নুর ইসলামকে (১৬) নিয়ে সুখেই আছি। বয়সের কারণে চলা ফেরায় কষ্ট হলেও ছেলে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করে। তার মনে এখন একটাই কষ্ট বহুদিন চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে গিয়েও একটি হুইল চেয়ার মেলেনি। ’ তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ছে, এই বয়সে একটি হুইল চেয়ার পেলে চলাচল করতে অনেক সহজ হতো।’
ওহাব আলীর স্ত্রী নুর বানু বলেন, ‘আমার স্বামী কর্মঠ ও পরিশ্রমী। সে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে আজ এতদূর এসেছে। জমি বলতে পৈতৃকভাবে পাওয়া বাড়িভিটে টুকুই ছিল। কিন্তু তার পরিশ্রমে আজ মোটামুটি সংসারে স্বচ্ছলতা বিরাজ করছে। আমি ভাগ্যবতি এমন পরিশ্রমী লোকের সংসারে এসে।’
কেদার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার জানান, ওহাব আলীর প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসে তার নামে হুইল চেয়ারের আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সালেকুল ইসলাম জানান, হুইল চেয়ারের চাহিদার তালিকা জেলায় দেয়া আছে। বরাদ্দ আসলে দেয়া হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper