রাস্তা থেকে ঘরে ডেকে নিয়ে যায় নারীরা, এরপর…

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় গত বুধবার সন্ধ্যায় তরুণী ফাঁদচক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এক পুলিশ সদস্য মক্কেল সেজে চক্রের ডেরায় গিয়ে রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

আটকরা হলো লালমনিরহাটের জাহাঙ্গীর আলম (২৪), শেরপুরের আইয়ুব আলী (২৮), জামালপুরের এরশাদ আলী (২৮) ও রত্না (৪৫), গাজীপুরের মাসুদ রানা (৩০), বরিশালের শামীম হোসেন (৪৫) ও গাইবান্ধার রূপা বেগম (২০)। তারা সবাই চৌরাস্তাসংলগ্ন ভোগড়া কাজিমুদ্দিন স্কুল সড়কের মো. শাহ আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

আটকদের কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট, অলিখিত চেক ও স্ট্যাম্প, একটি ক্যামেরা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েকটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও ১০টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একজন পুলিশ সদস্য বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মক্কেল সেজে বর্ষা সিনেমা হলের সামনে যান। সমলা নামের এক নারী কাজিমুদ্দিন স্কুল সড়কের ভাড়া বাসার তৃতীয় তলায় নিয়ে যায় তাঁকে। রূপা নামের আরেকজনের সঙ্গে পরিচয়ের ফাঁকে সমলা কেটে পড়ে। কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়া পরিচয়ে সোহেল, জাহাঙ্গীর, শামীম, মাসুদসহ কয়েকজন প্রবেশ করে। রূপার সঙ্গে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ অভিযোগে তারা মক্কেলকে মারধর করে। উভয়কে বিবস্ত্র করে আরো ছবি তুলে পত্রিকায় ছাপানোর হুমকি দেয়।

প্রতারকরা পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া এবং খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে লিখিত ও অলিখিত কয়েকটি স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। তারা দুটি বিকাশ নম্বর দিয়ে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে আরো ৭০ হাজার টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মক্কেল টাকা দেওয়ার নাম করে ঘটনাটি কৌশলে পুলিশকে জানান।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতারকচক্রটি টঙ্গী, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাত্রীরা গাজীপুরে এলে কৌশলে জিম্মি করে ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকাত। পরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিত। পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রতিদিন কেউ না কেউ এদের খপ্পরে পড়ত। এদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়েছে।

সুত্র:কা:কণ্ঠ অনলাইন