রুশ বিপ্লবের চেতনায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলুন: কমরেড মনজুরুল

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: রুশ বিপ্লবের চেতনায় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলুর আহবান জানিয়ে সিপিবি-র উপদেষ্ঠা ও সাবেক সভাপতি কমরেড মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, ’বহুকাল ধরে মানুষ সাম্য, মৈত্রী, ইনসাফের যে সমাজের স্বপ্ন দেখে এসেছে, অক্টোবর বিপ্লব সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়ন করার কাজ করেছে এবং তার মধ্য দিয়ে মানুষকে দিয়েছে আশা ও অগ্রযাত্রার পথের দিশা। তাই সেই চেতনা বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

“সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট” এর উদ্যোগে শনিবার(৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্মারকগ্রন্থ “ উৎসারিত আলো” প্রকাশনা, আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন “সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উদযাপন কমিটি, সিলেট” এর আহ্বায়ক বেদানন্দ ভট্টাচার্য এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, জাসদ সিলেট জেলা সভাপতি কমরেড লোকমান আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন, সিপিবি সিলেট জেলা সভাপতি কমরেড হাবিবুল ইসলাম খোকা, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর, প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড মনজুরুল আহসান খান বলেন, আজ থেকে একশ’ বছর আগে ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে রুশ দেশে যে বিপ্লব ঘটেছিল তা পৃথিবীকে চমকে ও বদলে দিয়েছে। একদিক দিয়ে নয়, বহুদিক দিয়ে। পরিবর্তন ঘটিয়েছে চিন্তায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে, রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থায়, মানবিক সম্পর্কে এবং মানচিত্রে।

তিনি বলেন, ‘মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অক্টোবর বিপ্লব মানব নভ্যতায় সূচনা করেছিল এক নতুন যুগের। বস্তÍুত, মার্কসবাদী তত্ত্ব ও মতাদর্শকে ধারণ করে অক্টোবর বিপ্লব পুঁজিবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে, সৃষ্টি করেছিল বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের এক নতুন আন্তর্জাতিকতা। শতাব্দী পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ওই বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য একবিন্দুও মলিন হয় নি বরং বর্তমান বিশ্বেও গাঢ় অন্ধকারের পটভূমিতে তা আরও উজ্জ্বল ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন সিপিবি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পাটি, গণতন্ত্রী পাটি, উদীচী, চারণ সংস্কৃতি কেন্দ্র, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী সহ বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগীতানুষ্ঠানে চারণ সংস্কৃতি কেন্দ্র, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ , নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ ও গণ সংগীত শিল্পী অংশুমান দত্ত সংগীত পরিবেশন করেন।