সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট হলে আওয়ামী লীগ আট পারসেন্ট ভোটও পাবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের বলছেন, আমরা নাকি আট ভাগও ভোট পাবো না। পাবো না ঠিক আছে, তাহলে ভোট নিচ্ছেন না কেনো? একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট দেন। দেখা যাক কে কত ভোট পায়। আপনারা হলে আপনারা আছেন, আমরা হলে আমরা আছি। না হলে নাই। সেটা তো করবেন না।
রবিবার(২১জানুয়ারি) বিকেলে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুস্তক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরা (সরকার) সহজেই নির্বাচন করবে না। কারণ এরা জানে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে এরা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ক্ষমতায় আসতে না পারলে এদের যে কী হাল হবে এই বিষয়ে জনগণ খুব ভালো করে জানে।
এ সময় উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগসাজস করে এই কাজটা (স্থগিত) করেছেন যাতে করে এটা রিট হয় এবং নির্বাচন করতে না হয়। নির্বাচন করলেই তো আপনাদের ভরাডুবি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আপনাদের ভরাডুবি অবধারিত ছিলো বলে সে কারণে আপনারা নির্বাচন বন্ধ করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জেগে উঠুন, আপনার অধিকার আদায়ের জন্য, আপনার সন্তান-স্ত্রী-কন্যাকে রক্ষা করার জন্য আপনি আজকে অবশ্যই জেগে উঠুন। এই যে দানব সরকার যার সক্রিয় পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে দেশে সব অনাচারে ভরে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, সত্যের ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
সংবিধানে যে ‘তত্ত্বাবধায় সরকার’ বিধান ছিল তাহলে তারা পরিবর্তন করলেন কেন এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তৎকালীন বিচারপ্রতি খায়রুল হক বলেছিলেন, এই তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আরো দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কই সেই কথা তো নেননি।
সরকারের চার বছরের উন্নয়নের রোল মডেল প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আপনারা উন্নয়ন উদযাপন করেছেন। কিসের উন্নয়ন। এরশাদ সরকারও উন্নয়ন উদযাপন করেছিলেন। তাকেও বিদায় নিতে হয়েছে। আজ যাকে স্বরণ করা হয় (শেখ মুজিব), তিনিও যখন স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছেন, জনগণের মাঝে চাপিয়ে দিয়েছেন তখন জনগণও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ছাড়াও সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন রাজনৈতিক সুবিধা হবে তখন আমরা সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি প্রমুখ।
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:-
Sylhetnewsbd Online News Paper