সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার তিন ওভারের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে এলো সাফল্য। স্বাগতিকরা বিচ্ছিন্ন করতে পারল কুসল মেন্ডিস-ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে। কাটার মুস্তাফিজই ভাঙলেন ৩০৮ রানের জুটি।
মুস্তাফিজের বেরিয়ে যাওয়া বল পুল করে টাইমিং করতে পারেননি ডি সিলভা। ব্যাটের কানায় লেগে ওপরে উঠে যাওয়া ক্যাচ গ্লাভসে নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। ভাঙে ৮০.২ ওভার স্থায়ী ৩০৮ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।
প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগানো ডি সিলভা ফিরেন ক্যারিয়ার সেরা ১৭৩ রান করে। তার ২২৯ বলের ইনিংসটি গড়া ২১টি চার ও একটি ছক্কায়।
৮২ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৩০৮/২। দলটি এখনও পিছিয়ে ২০৫ রানে। মেন্ডিসের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন রোশেন সিলভা। শ্রীলঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিস সবচেয়ে বড় উপহার পেয়েছেন বাংলাদেশের কাছ থেকেই।
টেস্ট ইতিহাসে দশম ও প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে জন্মদিনে সেঞ্চুরি করেছেন মেন্ডিস, কৃতিত্ব তাঁকে দিতেই হবে। তবে তাঁর সেঞ্চুরিতে অবদান আছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের রিফ্লেক্সের ঘাটতি আর পিচ্ছিল হাত।
মেন্ডিস ফিরতে পারতেন মাত্র ৪ রানে। কাল শ্রীলঙ্কা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন দ্বিতীয় স্লিপে। বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে বলটা হাতে নিতে পারেননি মিরাজ। ডানদিকে ঝাঁপ দেওয়া ইমরুলও পারেননি সেটি তালুবন্দী করতে।
মেন্ডিস আরেকবার সুযোগ পেয়েছেন ৩১তম ওভারে। এবার শুধু ইমরুল। মিরাজের বলটা শ্রীলঙ্কান ওপেনারের ব্যাট ছুঁয়ে দ্রুতই গেছে স্লিপে ইমরুলের কাছে, ধরাটা কঠিন হলেও অসম্ভব নিশ্চয়ই ছিল না। এ ধরনের ক্যাচ হাতে জমানোর অনুশীলন নিয়মিতই করতে হয় স্লিপ ফিল্ডারদের। ৫৭ রানে দ্বিতীয় জীবন পাওয়া মেন্ডিস ফিরতে পারতেন ৮৩ রানেও। আবার ইমরুল-মিরাজ! আজ সকালে মোস্তাফিজের বলেই ৫০.৪ ওভারে ক্যাচটা বেরিয়ে গেছে দুই স্লিপের ফাঁক গলে। টিভিতে দুই ধারাভাষ্যকারের একজন বলে উঠলেন, ‘জানি না মেন্ডিস ইচ্ছে করেই এমন শট খেলেছে কি না…’। পাশ থেকে আরেকজনের দ্বিমত, ‘না, না ওর ভাগ্যটাই আসলে ভালো। ’
খেলছেন দুর্দান্ত, ভাগ্যের ছোঁয়াও আছে—মেন্ডিসের সেঞ্চুরি পাওনাই ছিল। সেটি পেলেনও জন্মদিনে। জন্মদিনে সেঞ্চুরি করা সর্বশেষ ব্যাটসম্যান রামনরেশ সরওয়ান, সেটিও এক যুগ আগে, সেন্ট কিটসে, ভারতের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারে একটাই টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন, সেটিও জন্মদিনে, টেস্টে এমন ব্যাটসম্যান খুঁজে পাবেন দুজন—দক্ষিণ আফ্রিকার লি আরভিন ও ক্রিস লুইস। জন্মদিনে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি মাত্র দুজনের—প্যাটসি হেনড্রেন ও জেসন গিলেস্পির।
শেষেরজনের নামটা দেখে কি স্মৃতির কোষ সক্রিয় হয়ে উঠল? ঠিকই ধরেছেন, গিলেস্পির ওই ডাবলটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই, এই চট্টগ্রামে। ‘ডিজি’ বাংলাদেশকে ভুগিয়ে কীর্তিটা গড়েছিলেন ২০০৬ সালের ১৯ এপ্রিল।
হেনড্রেন-গিলেস্পির পাশে নাম লেখানোর সুযোগ আছে মেন্ডিসের। ১২৫ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চ করতে গেছেন শ্রীলঙ্কান ওপেনার। যদি সেঞ্চুরিটা ডাবলে রূপ দিতে নাও পারেন, তাতেও জন্মদিনটা ফিকে হবে না। ‘যাও জন্মদিনের উপহারটা নিজেই নিজেকে দাও’—চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মেন্ডিসের কানে এমন কোনো মন্ত্র পড়ে দিয়েছিলেন কি না, কে জানে! উপহার পেয়ে গেছেন, বাকি আনুষ্ঠানিক উদযাপন। প্রথম শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে জন্মদিনে টেস্ট সেঞ্চুরির পর শ্রীলঙ্কা-শিবিরে একটা পার্টি তো হতেই পারে!
Sylhetnewsbd Online News Paper