মোঃ মামুনুর রশিদ,আন্তর্জাতিক রিপোর্টার,সিলেট নিউজ বিডি: বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বাঙালির মানবিকতা আজ বিশ্বব্যাপি সমাদৃত।শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা লাখো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবিকতার এক নতুন উন্মেষ ঘটিয়েছে।এমন কথাই বার বার ঘুরে ফিরে বলছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের (এফসিও) সাউথ এশিয়া বিষয়ক মিনিষ্টার মার্ক ফিল্ড। কেবল মার্ক ফিল্ড এমপি নন, অ্যান মেইন এমপি, শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট জনথন আশওয়ার্থ এমপি, বাঙালির কারি লাভার এমপি কনজারভেটিভ দলের পল স্ক্যালি এমপি, শ্যাডো চ্যান্সেলার অব এক্সচেকার জন ম্যাকডনাল এমপি, অনুষ্ঠানের হোষ্ট জিম ফিটজপ্যাট্রিক এমপি সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিরা এমনি করেই বাংলাদেশের ভুয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন সহ আওয়ামীলীগ ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ব্রিটিশ এমপিদের নিয়ে আড়ম্বরপূর্ণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করলো যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। এই অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাশিক ব্রিটিশ এমপি উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৭ মার্চ ২০১৮) যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের দি টেরেস প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বছর একইরকমভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। বক্তব্যে ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
সঙ্গীতা আহমেদ ও সৈয়দা সায়মা আহমদের যৌথ পরিচালনায় এই আয়োজনের শুরুতে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের হোস্ট জিম ফিজপেট্রিক এমপি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যে সংখ্যক এমপি হাজির হয়েছেন অন্য কোনো অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমনটি আর ঘটেনি। লেবারদলীয় এই এমপি আরো বলেন, স্বাধীনতার সূচনা থেকে বাংলাদেশ ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকীর এই আয়োজনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা বাংলাদেশের উন্নয়নর পক্ষে ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
রোহিঙ্গাদের মানবিক দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর প্রশংসা করে মিনিষ্টার মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্ব সভায় দেশটিকে একটি শ্রদ্ধার আসন এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের মতো একটি জনবহুল এলাকার মানুষ নিজেদের কষ্ট অগ্রাহ্য করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র, এই ভূখণ্ডের মানুষ মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ।
জন্মের পর গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে, এমন মন্তব্য করে মার্ক ফিল্ড বলেন, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বে যে রাষ্ট্রের জন্ম তা আজ বিশ্ব সভায় সমাদৃত। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে- এমন প্রত্যাশা করে ব্রিটিশ এফসিও মিনিষ্টার বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির চলমান গণতন্ত্র আরও সমৃদ্ধ হবে এমনটিই আশা করে ব্রিটেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ব্রিটেন-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৮ বছর আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ জনগণ ও পার্লামেন্টের এমপিদের দৃঢ় সমর্থন আমাদের ইতিহাসের অংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ কঠিন সময় পাড় করছে- এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহতম এই মানবিক বিপর্যয় বাংলাদেশের একক কোন সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। নিজেদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বের দরবারে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper