সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে সুফিয়া কামাল হলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ছাত্রীদের উত্তেজিত করতে গুজবই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই কথার মাধ্যমে তিনি মূলত ছাত্রলীগকেই দায়ী করছেন বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিগত কয়েক সপ্তাহজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষক ও নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক সামাদ। এই সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার বর্ণনা দেয় শিক্ষক সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বাসায় হামলার বিষয়ে জানানো হয়, শিক্ষকদের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও অনুভূতিকে পুঁজি করে স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন সময় নানা রকমের গুজব এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেছে। এরই অংশ হিসেবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে ভিসির বাসায়।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীরা হামলাকারীদের পরিচয় সুস্পষ্টভাবে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগে শিক্ষক অধ্যাপক সামাদ বলেন, হামলাকারীদের বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। কারণ ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের পর জানা যাবে আসলে কারা আসল হামলাকারী।
কবি সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান এশার বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিরাতেই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত করার অভিযোগ করা হয়েছিলো কিনা জানতে চাইলে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা চৌধুরী তা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, এইগুলোও গুজব ও ভিত্তিহীন তথ্য। কারণ আমি আজ পর্যন্ত এশার বিরুদ্ধে কারো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার পর হলের বেশ কয়েকজন মেয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছিল এই বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় তো এশার লাঞ্ছনার ঘটনায় কাউকে বহিষ্কার করেনি। তাছাড়া ওইদিন দুপুরে হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘোরাঘুরি করছিল। তাই আমরা হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিভাবকদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন করতে চেয়েছিলাম।
তিনি বলেন, এশাকে লাঞ্ছনার বিষয়ে আমি হলের মেয়েদের বলেছিলাম যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মেয়েরা বলছিল, আমরা সবাই ওই সময় উপস্থিত ছিলাম। সুতরাং আপনি নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বহিষ্কার করতে পারেন না। বহিষ্কার করলে সবাইকে করতে হবে। তখনই আমি এই কথাটি বলেছিলাম।
প্রাধ্যক্ষ বলেন, এটা নিয়ে যে অডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেখানে অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীরা আগে পরে অনেক কিছু বাদ দিয়ে মাঝখানের অংশটা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper