সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ২০১২ সালে শামীম মোল্লাকে সভাপতি ও ঋত্বিক দেব অপুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয়েছিলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(সিকৃবি) ছাত্রলীগের কমিটি। ২০১৩ সালে তারা কমিটি কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ করেন। কেন্দ্র থেকে গঠন করে দেওয়া এ কমিটির মেয়াদ ছিলো মাত্র এক বছর। অথচ কমিটি গঠনের পর কেটে গেছে ছয় বছর। অর্ধযুগ ধরেই বহাল রয়েছে শামীম-ঋত্বিকের কমিটি।
সম্প্রতি সিকৃবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। এমনকি তারা কেন্দ্রের সাথে লবিংও চলিয়ে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদ দখলে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন অর্ধশতাধিক নেতা।
জানা যায়, গত মার্চে সিকৃবি ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এ সম্মেলনের পর নতুন কমিটির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়।
এদিকে নতুন কমিটির আশায় এখন উৎসুক সিকৃবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও পদ প্রত্যাশিত নেতারা স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং।
সভাপতি শামীম মোল্লার অনুসারী পদ প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে যাদের নাম শীর্ষে তারা হচ্ছেন হাবিবুর রহমান রাজু, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আলমগীর হোসেন (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ) সাধারণ সম্পাদক, আব্দুস সামাদ আজাদ হল শাখা, প্রদ্যুত দাস (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) যুগ্ম সম্পাদক, আব্দুস সামাদ আজাদ হল, ময়জুল ইসলাম রাহাত(২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) সাংগঠনিক সম্পাদক, হুমায়ুন রশীদ চৌ হল, রেজাউল মুন্না (২০১০-১১ ), আইন বিষয়ক সম্পাদক, সিকৃবি, খালিদ হাসান তারেক(২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) বঙ্গবন্ধু হল, শাকের আহমেদ প্রমুখ
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক ঋত্বিক দেব অপুর অনুসারীদের মধ্যে যাদের নাম শীর্ষে তারা হচ্ছেন মো. তানভীর ইসলাম (২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) যুগ্ম সম্পাদক, এম এস কিবরিয়া হল শাখা, শাহ মোঃ মোয়জ্জম (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক,অনুপ চৌধুরী (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক, রেজাউল ইসলাম চৌঃ (২০১২-১৩), যুগ্ম সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগ সহ অনেকেই।
এছাড়া এই দুই বলয়ের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পদ প্রত্যাশী শিপলু রায় (২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গেলেও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মাধ্যমে সুনাম কুড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তৃণমূল কর্মীরা চায় মেধাবী ও আদর্শবান ছাত্রনেতা। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি অনুধাবন করবে বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা চান এমন নেতৃত্ব আসুক যারা নিয়মিত ছাত্র, ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। একাধিক নেতাকর্মী জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচন, যাদের মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ বা শেষ পর্যায়ে তারা যেন নতুন নেতৃত্বে না আসেন। ছাত্রত্ব ছাড়া সামনে নির্বাচনের কঠিন সময় পার করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, কিছু প্রার্থী নিজেদের এম ফিল কোর্সের শিক্ষার্থী দাবি করলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত এই কোর্সের কোন অস্তিত্ব নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন,হাবীবুর রহমান রাজু ও রেজাউল ইসলাম মুন্না ছাত্রত্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শিপলু রায় অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে পঞ্চম সেমিষ্টারে রয়েছেন এবং জুন মাসে ছাত্রত্ব শেষ হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর করায় আজীবন বহিষ্কার হয়েছিলেন পরবর্তীতে বন্ড স্বাক্ষর করে ক্যাম্পাসে কোন রাজনীতি বা বিশৃঙ্খলা করবেন না মর্মে ছাত্রত্ব ফিরে পান।
Sylhetnewsbd Online News Paper