খালেদার জামিন পাওয়ার কৌশল অসুস্থতা: অ্যাটর্নি জেনারেল

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া আপিল শুনানিতে বক্তব্য তুলে ধরেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

এদিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যেসব বক্তব্য তুলে ধরছেন, সেগুলো জামিন পাওয়ার কৌশল মাত্র।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অসুস্থতা বিএনপি নেত্রীর জন্য নতুন কিছু নয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামতের বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আবার বাইরে এসে প্রেস কনফারেন্স করেছেন। যেটা উদ্দেশ্যমূলক করেছেন। জামিন পাওয়ার জন্য এটা করেছেন।

আর উনার যে সমস্ত শারীরিক সমস্যা আছে এগুলো ৩০ বছর যাবত, ২০ বছর যাবত, ১০ বছর যাবত। এটা নতুন কিছু না।

আদালতে শুনানি শেষে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদেরকে বলেন, উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যে কথাটা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি দেখিয়েছি, উনাদের নিয়োজিত চিকিৎসকই উনাকে শুধুমাত্র একটি নাপা খেতে বলেছেন। ব্যাথার ওষুধ।

এও আমি বলেছি, উনার ইচ্ছামত উনাকে একজন সেবিকা (ফাতেমা) দেয়া হয়েছে। যেটা জেলকোডের বিধান নাই। আর উনার ইচ্ছামত উনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক উনাকে দেখেছেন।

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার দলের দাবি নিয়েও কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বলেন, উনার যদি এমআরআই দরকার হয় বা সিটি স্ক্যান দরকার হয়, উনি যেই হাসপতালে পছন্দ করবেন সেই হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু উনাকে বাইরে কোনো হাসপাতালে রাখা যাবে না উনার নিজের নিরাপত্তার জন্য।

সর্বশেষ আমি বলেছি, রাষ্ট্র একটি মেডিকেল বোর্ডও করেছেন। মেডিকেল বোর্ড সেই রকম কোনো পরামর্শ দেয় নাই যে উনাকে বাইরের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিএনপি নেত্রী। গত ২৮ মার্চ তার অসুস্থতার গুঞ্জন ছড়ায়। পরদিন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসে।