সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: শুক্রবার(১৮ মে) ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা চেন্নাই এবং তলানিতে থাকা দিল্লির লড়াই চলাকালীন ম্যাচে দেখার মতো এক দৃশ্য হল। মহেন্দ্র সিং ধোনি-সুরেশ রায়নাকে কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছেন আইপিএলে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা নেপালের সন্দ্বীপ লামিচান। আইপিএলের ইতিহাসে তিনি প্রথম কোন নেপালি খেলোয়াড়। ১৭ বছর বয়সী এ স্পিনার বল হাতে পুরোটা সময় উজ্জ্বল ছিলেন। লামিচানের যে ৬ বল খেললেন ধোনি, একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি, নিতে পেরেছেন ৫টি সিঙ্গেল। রায়না একপর্যায়ে ১৭ বছর বয়সী নেপালি লেগ স্পিনারের দারুণ গুগলিতে উইকেটই দিয়ে এলেন।
ক্রিকেট বিশ্বে নেপালের নাম অতিক্ষুদ্র। ভারতে লামিচানের গুগলি দৃশ্য দেখে নেপালিরা নিশ্চয়ই খুশি। কারণ তারা ক্রিকেটবিশ্বে নিজেদের পা রাখার আগেই পেয়েছে দারুণ এক লেগ স্পিনার।
১৭ বছর বয়সী লামিচানকে চলমান আইপিএলে একাদশে তেমন একটা জায়গা দেয়া হয়নি। মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন, আর তাতেই আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন এই নেপালি। তাই তিনি দেশের হয়ে নিজেকে বিশ্ব দরবারে মেলে ধরতে চান। পরিসংখ্যান অতি উজ্জ্বল না হলেও বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৫ রানে ১ উইকেট, শুক্রবার চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ২১ রানে ১ উইকেট নিয়ে নেপালি লেগ স্পিনার তার অমিত সম্ভাবনার কথা ভালোভাবেই জানান দিয়েছেন।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৬ যুব বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন লামিচান। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও। পরে তার প্রতি সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের আগ্রহ, সবশেষ আইপিএল দিয়ে লাইমলাইটে চলে আসা। লামিচানের আরো এক অর্জন, সাকিব আল হাসান নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় আইসিসির বিশ্ব একাদশেও সুযোগ পেয়েছেন। এখন নেপাল ক্রিকেটের মুখ হয়ে উঠেছেন ১৭ বছর বয়সী এই লেগি।
নেপাল ক্রিকেটে এখন দারুণ এক লেগ স্পিনার প্রাপ্তির আনন্দ। অথচ নেপালের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেটে কান পাতলে শোনা যাবে একজন লেগ স্পিনারের হাহাকার। এই যে কদিন পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এখানেও চলে আসছে একজন লেগ স্পিনার। আফগান দলে একজন রশিদ খান আছেন বলে বিস্তর ভাবতে হচ্ছে মুশফিক-তামিমদের। প্রতিপক্ষ দলে দুর্দান্ত এক লেগ স্পিনার আছেন বলেই বাংলাদেশ জোর গলায় বলতে পারছে না এই সিরিজে তারাই ফেবারিট।
আমাদের পরে ক্রিকেট অঙ্গনে পা রাখা আফগানিস্তান-নেপাল যদি দারুণ সব লেগ স্পিনার পায়, তাহলে বাংলাদেশ দলে কেন সেটি দেখা যায় না? বছর চারেক আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকটা ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন জুবায়ের হোসেন। দারুণ প্রতিশ্রুতি জাগিয়েও পথ হারিয়ে ফেললেন তিনি। এই পথ হারিয়ে ফেলায় তার নিজের যেমন দায় আছে, দায় আছে টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক, এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটের দলগুলোরও। পথ হারিয়ে ফেলা জুবায়েরকে ঠিকভাবে পরিচর্যায় করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তোলাই যায়।
অবশ্য জুবায়েরকেই যে শুধু বাংলাদেশের লেগ স্পিনারের শূন্যতা পূরণের বিশাল ভার নিতে হবে, সেটিও নিশ্চয় নয়। গত বছর বিসিবি যে স্পিনার অন্বেষণ কর্মসূচি চালিয়েছিল, সেটির ফল কী? স্পিনারের খোঁজে বিসিবি ও মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির আয়োজনে ‘খোঁজ: দ্য নাম্বার ওয়ান স্পিনার’ কর্মসূচির প্রাথমিক পর্বে ছেলেমেয়ে মিলিয়ে বাছাই করা ১ হাজার স্পিনারের মধ্যে শেষ পর্যন্ত যে ১০ জন বিজয়ী হয়েছিলেন, শীর্ষ দশের চারজনই ছিলেন লেগ স্পিনার, একজন ‘চায়নাম্যান’।
স্পিন হান্টের প্রাপ্তি নিয়ে কদিন আগে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদ বলছিলেন, ‘আমরা আসলে সেই প্রতিভা পাইনি, যেটা আমরা খুঁজছি। যার ভেতর ভালো প্রতিভা নেই, জোর করে তাকে তৈরি করা আসলে কঠিন। তবুও আমরা হতাশ নই। আশা করি পাব। কিছু ভালো ছেলে অবশ্য আছে। একেবারে যে নেই, তা নয়।’
কয়েকটি অনুশীলন ক্যাম্প হওয়ার পর স্পিন হান্ট থেকে পাওয়া স্পিনাররা আপাতত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। কেউ খেলছেন বয়সভিত্তিক দলে, কেউ নিজের বিভাগীয় দলে। স্পিনার বাছাইয়ের দায়িত্ব থাকা কোচ ওয়াহিদুল গণি প্রতিভাবান লেগ স্পিনার পেতে সময় চাইলেন, ‘একটু সময় তো লাগবেই। এত দ্রুত হবে না। আশা করি, ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসবে তারা।’
Sylhetnewsbd Online News Paper