সকালে ঘুম থেকে ওঠা দারুণ স্বাস্থ্যকর বিষয়। তাই যদি হয়, তবে এ কাজটা এত কঠিন কেন? সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘কুয়োরা’তে এমন প্রশ্ন করেন একজন। এর জবাব দিয়েছেন ইভোলুশনারি বায়োলজির পিএইচডি সুজানে স্যাডেডিন।
মানুষের ঘুম ও জাগার অভ্যাস সার্কাডিয়ান ক্লকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ২৪ ঘণ্টায় দেহের হরমোন ক্ষরণের চক্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এই দেহঘড়ি। মানুষের মাঝে কয়েক ধরনের চক্র গড়ে উঠতে পারে। তবে আসল বিষয় লুকিয়ে রয়েছে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশে।
মানুষের চোখে বিশেষ ধরনের ফটোসেনসিটিভ কোষ রয়েছে। সাধারণ দৃষ্টিশক্তি দিতে ব্যবহৃত হয় ‘রডস’ এবং ‘কোনস’ নামের কোষ। যখন চোখে আলো আসে তখন এই কোষগুলো মস্তিস্কের হাইপোথ্যালামাস অংশকে সতর্ক করে। এরাই এ তথ্য দেয় যে এখন দিন নাকি রাত? যখন হাইপোথ্যালামাস সিদ্ধান্ত দেয় যে এটা রাত, তখন পিনিয়াল গ্রন্থি মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে। এটি মানুষকে ঘুম এনে দেয়।
রাতের কৃত্রিম আলো হাইপোথ্যালামাসকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এটা তখন ভাবতে থাকে। আলো আছে মানে এখনো ঘুমের সময় হয়নি। যতক্ষণ ঘুমাবেন না, সেই বাড়তি সময় সকালে ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেয় দেহ। আবার সকালে মানুষ জানালায় পর্দা দিয়ে আলো প্রবেশ বন্ধ করে রাখে। এতেও হাইপোথ্যালামিন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ওঠার সময় হলেও ঘুম থেকে যায়। ওই দিন রাতেই সার্কাডিয়ান ক্লক ভিন্ন আচরণ করে। হাইপোথ্যালামাস এই চক্র নিজে থেকেই ঠিক করে নেয়।
এক গবেষণায় বলা হয়, মানুষকে প্রাকৃতিক আলো থেক দূরে রাখলে সার্কাডিয়ান ক্লক ২০ মিনিট বেশি দীর্ঘ হয়। সার্কাডিয়ার সার্কেল হৃদস্পন্দন কমিয়ে আনে। দেহের তাপমাত্রা কমে আসে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ কমিয়ে আনে। সেই সঙ্গে সার্কাডিয়ান চক্রে সমস্যা হলে দেহের জিনে প্রভাব পড়ে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, আধুনিক যুগে মানুষের যে ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠেছে তা কৃত্রিম এবং সহজাত অভ্যাসবিরোধী। কৃত্রিম আলো মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটায়। এ সমস্যা ক্রনিক হয়ে যেতে পারে।
সকাল ওঠা যাদের অভ্যাস, তাদের সঙ্গে রাতজাগা মানুষগুলোর পার্থক্য কি? বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, রাতজাগা মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি এবং ইনসমনিয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আর যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন তারা পেশাগতভাবে অনেক বেশি সফল।
এ ছাড়া আরো বেশি উৎপাদনশীল ও সম্পদশালী হয়ে থাকেন। তাই বলে এক দল সকালে ওঠা মানুষের মধ্যে নিশাচর কোনো মানুষকে অসহায় বোধ করতে মানা করেছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ যখনই ঘুমান না কেন, ঘুম ঠিকঠাক হলে আপনি ঠিকই যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। অর্থাৎ, রাতজাগা মানুষরাও অনেক সফল হতে পারেন।
দেহঘড়ির চক্র যতই বদলে যাক না কেন, ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার চক্র ঠিক রেখে আপনিও সকালের পাখিদের মতোই জীবনযাপন করতে পারেন।
সূত্র: ফোর্বস
Sylhetnewsbd Online News Paper