মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনীতে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা তুলাচাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তুলাচাষ লাভজনক বলে পরামর্শ দেয়া হলেও সরকারীভাবে কম মূল্য নির্ধারণ করায় চাষীরা তুলা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে না পারায় তারা আর এ আবাদ করবেন না বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন।।
গাংনী তুলা উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ৫শ’২৫ হেক্টর। চাষ করা হয়েছে এক হাজার ৪শ’ ৮৬ হেক্টর জমিতে। তুলনামূলকভাবে আবাদ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। সম্প্রতি কটঁন বোর্ডের যশোর , ঝিনাইদহ , চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জোনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও টেক্সটাইল মিল এবং জিনার গণ তুলা ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন এবং চাষীদের সাথে কথা বলেছেন।
এছাড়াও গাংনী উপজেলার তুলা চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে গাংনী, ধানখোলা, বেতবাড়ীয়া, কাজীপুর ও বামন্দীর ৫টি ইউনিটের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের নিয়ে আইপিএম প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। চলতি মৌসূমে গাংনী সদর, গাঁড়াডোব, আযান, ধানখোলা, মহিষাখোলা, জালসুকা, বামন্দী, মটমুড়া, রাজাপুর, তেঁতুলবাড়ীয়া, বেতবাড়ীয়া ও কাজীপুরে তুলনামূলকভাবে তুলা চাষ বেশী হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার তুলার ফলন আশানুরুপ হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ও তুলা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর চাষীদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল রূপালী-১ (হাইব্রিড) ও সিবি-১৪ (নিজস্ব) জাতের বীজ প্রদান করা হয়েছে। চাষীদের ধারনা, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১৪/১৫ মন হারে তুলা উৎপাদন হতে পারে। তাদের দাবী, তুলার মূল্য মনপ্রতি ২ হাজার ৫শ’ টাকা করা হলে চাষীরা তাদের উৎপাদন খরচ বাদে কিছুটা লাভবান হতেন। এরকম বাজার দর নির্ধারণ করা হলে আগামীতে কৃষকরা আগ্রহ হারাবে এবং তুলা চাষ কমে যাবে।
শিশিরপাড়া গ্রামের তুলা চাষী কামালউদ্দীন জানান, তিনি এবছর ১৫ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছেন। ফলনও ভাল হবে বলে আশা করছেন। গত বছরে মন প্রতি তুলার দাম ছিল ১ হাজার ৯শ’ ২০ টাকা, এবছর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১শ’টাকা। জমি প্রস্তুত, সার, সেচ, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ উৎপাদন খরচ বাদ দিলে চাষীদের কিছুই থাকে না। একই কথা জানালেন, গাঁড়াডোব গ্রামের গোলাম মোস্তফা, কবির হোসেন ও গাংনীর আমিরুল ইসলাম।
চাষিরা আরো জানান, সময় মত উন্নত তুলা বীজ না পাওয়া, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, আবাদ করতে ব্যাংক ঋণ পেতে জটিলতা ও উৎকোচ প্রদান না করলে হয়রানিসহ নানা কারণে চাষীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। সরকার প্রতিবছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার তুলা আমদামী করছে। কিন্তু আমাদের দেশে তুলার ন্যায্য মূল্য না দেয়ার কারণে দেশের চাহিদা মেটানোর মত কোন আবাদ হচ্ছে না।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের গাংনী ইউনিট কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তুলা চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে গাংনী, ধানখোলা, বেতবাড়ীয়া, কাজীপুর ও বামন্দীর ৫টি ইউনিটের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের নিয়ে আইপিএম প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তুলার আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা তুলঅ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। গত বছরে মন প্রতি তুলার দাম ছিল ১ হাজার ৯শ’ ২০ টাকা, এবছর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১শ’টাকা। তুলার মুল্য বৃদ্ধি ছাড়াও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এবং বর্গা চাষীদের সহজ শর্তে ঋণ বা আর্থিক সুবিধা দিলে তুলা চাষ বাড়বে । সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তুলা চাষ লাভজনক হতে পারে।তুলা চাষে চাষীদের আগ্রহী করতে পারলে দেশের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper