আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: তাহিরপুর উপজেলা টাংগুয়ার হাওড় পাড়ের কৃতি সন্তান অনন্য প্রতিভার অধিকারী, যিনি ছিলেন পটভূমিতে গল্পগ্রন্থ সৃষ্টিতে অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী। যার জন্ম ১৯২৫ সালের ২৬শে মে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিন ইউনিয়নে টাংগুয়ার হাওড়ের কুলঘেষে মাহমুদপুর নামক অজপাড়া এক গ্রামে। জন্ম যার যেতায় সেতায় কর্মেই তার পরিচয়,যার উদাহরণ অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলী।
আজ এই হাওড় পাড়ের অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলীর ৯৩ তম জন্মদিন। এই হাওড় পাড়ের প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক শাহেদ আলী জন্মকর্ম দিন দিন তরুণ প্রজন্মের কাছে বিলুপ্ত হতে চলেছে। তার জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পুর্বে মাঝে মধ্যে কিছু লেখা- প্রকাশ হলেও আজকাল জাতীয় অথবা স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় তেমন কোন লিখা চোখে পড়ছে না। তাই আজ উনার জন্মদিন উপলক্ষে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য সাহেদ আলীর বিভিন্ন সুত্র হতে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলীর আজকের এই ৯৩তম জন্মদিনে স্বরনিকা হিসাবেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি একজন হাওড় পাড়ের নগণ্য মানুষ হিসাবে বিবেকের তাড়নায় আজ আমাদের গৌড়বময় ব্যাক্তিকে তরুণ প্রজন্মকে স্বরন করিয়ে দেওয়ার অব্যার্থ চেষ্টা মাত্র।
তাহিরপুরের হাওড় পাড়ের অজপাড়া গ্রামের শাহেদ আলী একজন সাহিত্যিক,গল্পকার, কলম সৈনিক ও অধ্যাপক ছিলেন। তার গল্পের মূল বিষয় ছিল মানবতা মনুষ্যত্ববোধ,নীতিকথা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ। এই হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলীর লিখা গ্রামের মানুষের বৈশিষ্ট্র ও গ্রামের অবহেলিত খেটে খাওয়া জনমানুষের জীবনবৈচিত্রের সার্থক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত তার লিখনীর ভাষায়। সাহেদ আলীর গল্পে কোন সংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ, অত্যাচার-নিপীড়ন, অরাজকথা-পৈশাচিকতা নেই। শুধুই মানবিক গুণাবলিতে ফুটে উঠেছে উনার লিখনির ভাষার গল্পগ্রন্থ। দেশের মুসলিমজাতির মধ্যে যে কয়জন ছোট গল্পকারগনের গল্প লিখা চোখে পড়ে তার মধ্যে হাওড় পাড়ের শাহেদ আলী নানা দিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য। এই হাওড় পাড়ের সাহেদ আলীর যে কয়েকটি বিষয়ে আমাদের মুল্যায়ন করা উচিত,তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উনি হলেন দেশের মুসলিম জনগোষ্টির একজন স্বার্থক রূপকার। সাহেদ আলীর লিখা গল্প চোঁখে পড়লেই খুজে পাওয়া যায়, ভাটি অঞ্চল হাওড় পাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না, জীবন চলার নানা প্রতিকূলতার সংগ্রাম ইত্যাদি। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে একজন ইসলামিক চিন্তাবিদ ছিলেন এবং তা হৃদয়ে লালন করতেন যাহা তার লেখার ভাষায় ফুটে আছে আজ ইতিহাসের পাতায়। তিনি মুসলমানদের জীবন কাহিনী যেভাবে লিখতে ভালবাসতেন তেমনি গল্পগ্রন্থ লিখতে শব্দ ব্যাবহারে ছিলেন অত্যান্ত সচেতন। এমন শব্দ তিনি তার গল্পে ব্যবহার করেছেন যা জন্মভুমি এই বাংলার নিজস্ব ভাষা, যাহা বাংগালীজাতির জনজীবনের চলমান শব্দাবলী। তাঁর গল্প পড়লে সহযেই বলা যায় গল্পের উদ্যেশ্য। গল্পকার যেমন তার লিখনির ভাষায় সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতেন তার কল্পনার ভূবন। তেমনি তিনি চিন্তামগ্ন করতেন প্রায়ই তার জন্মভুমি গ্রাম, হাওড় এবং,হাওড়ের জিববৈচিত্র হাওড় পাড়ের গরীব-দুঃখী,মেহনতি বিন্ন পেশাদ্বার জনমানুষের কথা।
হাওড় পাড়ের অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলী শৈশবকালেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন,তৎকালীন সময় উনার জন্মভুমি হাওড় পাড়ে শিক্ষার ব্যাবস্থা নাম মাত্র থাকলেও, উনি ছিলেন অন্যদের ছেয়ে আলাদা উনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে সাফল্যতার সাথে প্রাথমীক শিক্ষা অর্জন করেছেন।
১৯৪৩খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ন হন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ব্যাচলার ডিগ্রি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৫০খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সহিত্যে মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এই হাওড় পাড়ের সাহেদ আলী শুধু কথাশিল্পীই ছিলেন না, তিনি সমাজ সংস্কারকও ছিলেন। উনি পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলনে অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন উনি ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র দৈনিক সৈনিক পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন সাহেদ আলী। এবং ১৯৪৮ হইতে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলনের সার্বিক
কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন তিনি। সাহিত্যিক সাহেদ আলী ভাষা আন্দোলনের সংগঠন “তমুদ্দিন মজলিস এর সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন
করেন। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শিক্ষাদানের মাধ্যমে শুরু হয় সাহেদ আলীর কর্মজীবন। পর্যায়ক্রমে রংপুর কারমাইকেল কলেজ, চট্রগ্রাম সিটি কলেজ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম প্রতিষ্ঠিত মিরপুর বাংলা কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন সাহেদ আলী। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে খেলাফত রব্বানী পার্টির ব্যানারে পূর্ব-পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন সাহেদ আলী। ১৯৫৪ হইতে ১৯৫৮খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি আইন সভার সদস্য ছিলেন। হাওড় পাড়ের সাহেদ আলী শৈশবকাল হতেই লিখতে ভালবাসতেন, তারি দ্বারাবাহিকতায় অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়ন কালে তখনকার বিখ্যাত সওগাত পত্রিকায় তার সর্বপ্রথম গল্প অশ্রু” প্রকাশিত হয়।
১৯৪৪ হইতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি মাসিক প্রভাতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৫৫ খ্রিস্টব্দ দৈনিক বুনিয়াদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৮২খ্রিস্টাব্দ পার্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের অনুবাদ ও সংকলণ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন। একেই সাথে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা ও ফাউন্ডেশনের বিখ্যাত শিশু মাসিক পত্রিকা “সবুজ পাতা” এর সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৮২খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। বাংলা একাডেমী পত্রিকার সম্পাদনা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮০খ্রিস্টাব্দে তিনি মাল্যাসিয়ায় অনুষ্ঠিত সাহিত্য উৎসবে বাংলাদেশ সরকারের প্রেরিত একমাত্র সাহিত্যিক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলী। অধ্যাপক শাহেদ আলীর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে- ১৯৪৬ খ্রিদটাব্দে প্রকাশিত একমাত্র পথ,তরুণ মুসলিমের ভূমিকা ও ফিলিস্তিনে রুশ ভূমিকা, ১৯৪৮খ্রিস্টাব্দে, সাম্রাজ্যবাদ ও রাশিয়া ১৯৫০খ্রিস্টাব্দে তরুণের সমস্যা ১৯৬০,খ্রিস্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে চট্রগ্রামের অবদান ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে তওহীদ বুদ্ধির ফসল আত্মার আশিষ ১৯৭০খ্রিস্টাব্দে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা ইক্যুনুমিক অর্ডার অফ ইসলাম ১৯৭৮খ্রিস্টাব্দে জীবন নিরবচ্ছিন্ন ১৯৮০খ্রিস্টাব্দে
রুহীর প্রথম পাঠ, ছোটদের ইমাম, আবু হানিফা,ইসলাম ইন-বাংলাদেশ, ১৯৮১খ্রিস্টাব্দে সোনার গাঁয়ের সোনার মানুষ,ইত্যাদি,১৯৯২খ্রিস্টাব্দে
অনুবাদ কর্মের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ আসাদ রচিত ইসলামী রাষ্ট্র ও সরকারী পরিচালনার মূলনীতি, ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে মক্কার পথ, কে বি এইচ কোনা রচিত আধুনিক বিজ্ঞান ও আধুনিক মানুষ, হিরোরডাটাস রচিত ইতিবৃত্ত,ইত্যাদি১৯৯৪খ্রিস্টাব্দে তার একমাত্র উপন্যাস “হৃদয় নদী” ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – নাটিকা “বিচার”ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ জীবন দৃষ্টি সাম্প্রদায়িকতা”, ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ “বিপর্যয়ের হেতু প্রভৃতি।
শাহেদ আলীর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের৭ টি গল্প সংকলিত হয়।
গল্প গুলো হলো- ঐ যে নীল আকাশ, ফসল তোলার কাহিনী, নানীর ইন্তেকাল, এলোমেলো, পোড়ামাটির গন্ধ, আতশী ও জিব্রাইলের ডানা। জিব্রাইলের ডানা “হিন্দী,উর্দু, ইংরেজি ও রাশিয়ান ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।স্বপ্ন ও বাস্তব দুটি এই আলাদা দুটি জগৎ তা নিয়ে নিয়ে মানুষের জীবনের যে প্রতিদিন গতিমান জীবনের সঙ্গে যে যুদ্ধ করতে হয় তাই সাহেদ আলী উনার লিখুনির মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দরভাবে জিব্রাইলের ডানায়” তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক ভাবে যার আলোড়ন চড়ায়।
বিভিন্ন সুত্রমতে জানা যায়, এই গল্পটি নিয়ে ভারতের কয়েজন জন চলচিত্রকার ফিল্ম নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষবাদী ও বামপন্থি বুদ্ধিজীবিদের চক্রান্তে তাদের পরিকল্পনা প্রচেষ্টা সফল হতে পারেনি। এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের চিত্র পরিচালক ইবনে মিজানও জিব্রাইলের ডানা নিয়ে ছবি তৈরী করতে এগিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু তিনিও পিছু হটেন অদৃশ্য কারনে।
দেশের বিদেশভক্ত কিছু কবি- সাহিত্যিকদের কারনে শাহেদ আলী এবং তার গল্পের প্রচার ও প্রসারে এভাবেই বার বার বিঘ্ন ঘটিয়েছেন তারা।
১৯৬৩খ্রিস্টাব্দে সাহেদ আলীর১০ টি গল্প প্রকাশিত হয়। গল্পগুলো হল- সিতারা, পুতুল, মা, বমি, কান্না,অহেতুক, বন্যান, মহাকালের পাখনায়, দ্বীন ব্রাদার্স ও একই সমতলে।
১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ৮টি গল্প নিয়ে তৃতীয় গল্পগ্রন্থ “ শা’নযর” । গল্পগুলো হল- নীল ময়না, জননী, কবি, নেপথ্যে, ছবি, মন ও ময়দান, নোঙর ও শা’নযর। এর মধ্যে “মন ও ময়দান” ভাষা আন্দোলনের উপর প্রকাশিতপ্রথম গল্প। ৬টি গল্প নিয়ে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় লেখকের চতুর্থ গল্পগ্রন্থ “অতীত রাতের কাহিনী-পৃথিবী, ইটের পর ইট, রাত অন্ধকার,সোনাখালী, মানুষের মানচিত্র ও অতীত রাতের কাহিনীসহ অসংখ্য গল্পগ্রন্থ।
এই বহুধা প্রতিভার অধিকার কথাশিল্পী সাহিত্যিক সাহেদ আলী১৯৬৪খ্রিস্টাব্দে ছোট গল্পের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮১খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলন পদক,১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে একুশে পদক, ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, ২০০০ খ্রস্টাব্দে তমুদ্দিন- মজলিস মাতৃভাষা পদক ও জাসাস স্বর্ণপদক। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে কিশোর কন্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) সহ অসংখ্য পুরস্কার পান,হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলী। তিনিএকাধারে ছিলেন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক,ইসলামী চিন্তাবিদ, অনুবাদক ও গবেষক।অতিথে হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলীর গল্প কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত থাকলেও বর্তমানে পাঠ্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।
সরকারীভাবে এই গুনি কথাশিল্পীর সাহিত্যকর্ম ও জীবন দর্শন প্রকাশ ও প্রচার করা সময়ের দাবি বলে তরুণ শিক্ষার্থীরা, তরুণ ছড়াকার, তরুণ সাংবাদিক ও উনার জন্মভুমির স্থানীয় সুশীল সমাজ প্রতিনিধিগন মনে করেন।
বহুধা প্রতিভার অধিকারী সাহেদ আলী ২০০১খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

Sylhetnewsbd Online News Paper