সাংবাদিকদের উপর হামলার আসামিদের মালামাল ক্রোকের নির্দেশ

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেটে আদালত প্রাঙ্গনে দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকের উপর হামলার মামলায় পলাতক ১০ আসামির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ০৬ জুন সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত-১ এর বিচারক মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী এই নির্দেশ দেন। আদালত সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাদি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মনির আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নথি পাওয়া যাবে।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে এই মামলার প্রথম দফা চার্জশীটটি দাখিল হয়। ওই চার্জশীটে বাদ দেয়া হয় জৈন্তাপুরের মল্লিফৌদ গ্রামের ওয়াজিদ আলী টেনাইয়ের পুত্র লিয়াকত আলী, নয়াখেল গ্রামের মতিউর রহমানের পুত্র ফয়েজ আহমদ বাবর, আদর্শ গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র শামীম আহমদ ও খারুবিল গ্রামের আলী আহমদের পুত্র মো: হোসাইন আহমদকে। পরবর্তীতে বাদিপক্ষের নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি পূন: তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পরিদর্শক লিটন চন্দ্র পাল ঘটনার মুলহোতা জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও তার তিন সহযোগীকে বাদ দিয়ে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে দ্বিতীয় দফা চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশীটে অভিযুক্ত করেন জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামের খাতির আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম, হরিপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জুয়েল আরমান, চাল্লাইন গ্রামের সাইফ উদ্দিনের ছেলে নুরুদ্দিন মড়া, ঘাটেরছটি গ্রামের লুৎফুর রহমান কালার ছেলে এম জেড জাহাঙ্গীর, শফিকুর রহমানের ছেলে তোফায়েল আহমদ, আলু বাগান গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে সৈয়দ রাজু, বাউরবাগ মল্লিফৌদ গ্রামের মোহাম্মদ আলী মড়ার ছেলে ফারুক আহমদ, হাটিরগাঁও গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে শাব্বির আহমদ, আদর্শ গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে মনির মিয়া, লক্ষীপুর পূর্ব গ্রামের মনির মিয়ার ছেলে তাজ উদ্দিন, সরুফৌদ গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে হোসেন আহমদ উরফে টাটা হোসেন, সরুখেল পশ্চিম গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সুলতান আহমেদ, মল্লিফৌদ বাউরবাগ গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ওরফে ইয়ারছার ছেলে শামীম আহমদ ও বাউরবাগ উত্তর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে নুরুল ইসলাম এই ১৪ জনকে।

আদালত চার্জশীট গ্রহণের পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরমধ্যে ৪ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকলেও বাকি ১০ জন পলাতক রয়েছেন। বুধবার(৬ জুন) আসামিরা হাজির না হলে আদালত তাদের মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি সিলেটের আদালত প্রাঙ্গনে দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আক্রান্তরা হচ্ছেন যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন নিরানন্দ পাল ও যুগান্তরের ফটো গ্রাফার মামুন হাসান। এ ঘটনায় নিরানন্দ পাল বাদী হয়ে লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবরকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন।