সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: এবছর ঈদে সারাদেশে ৩৩৫টি নৌ, রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২৭৪ জন। এ মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৩৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৬৫ জন। এছাড়া ৫৫জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার(২৯ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছি যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সড়কের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সুলতানা কামাল আরও বলেন, আত্মহত্যা করার মতো শয়ে শয়ে মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে। আমরা বেপরোয়া জাতিতে পরিণত হয়েছি। যা কিছু হয়, তা বন্দুকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনগণও তালি দিচ্ছে। কিন্তু সংকটের সমাধান হচ্ছে না। আইনের শাসন সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিত করা দরকার।’
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে ঈদুল ফিতরে ৬০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮০৩ জন। তিনি আরও বলেন, ঈদ যাত্রা শুরুর দিন থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে ১৩ দিনে ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জন নিহত ও ১ হাজার ২৬৫ জন আহত হয়েছে। একই সময় নৌপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ৫৫ জন নিখোঁজ ও ৯ জন আহত হয়েছে। রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩৫ জন, ট্রেনের ধাক্কায় ৪ জন ও ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ২ জনসহ মোট ৪১ জন নিহত হয়েছে। এবার ঈদে বাড়ি ফিরতে ও কর্মস্থলে যোগ দিতে গিয়ে মোট ৪০৫ জন মানুষ মারা গেছে।
মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০০৬ সালে ঈদুল ফিতরের সময় নৌ, রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল ২০০ জন। আর গত বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩০১ জন। আর এবার ৪০৫ জন।
এবার বেশি সংখ্যায় মানুষ নিহত হওয়ার কারণ সম্পর্কে মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, এবার ঈদে পরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি হয়েছে। ফলে মানুষ বিশেষত দরিদ্র মানুষ বাস ও নৌপথে বেশি টাকা দিয়ে যেতে পারেননি। তারা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। এতে অবশ্যই সরকারের দায় আছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper