সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে ভয়াবহ নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার বিবরণ শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।
সোমবার ০২ জুলাই কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে ওই সব নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের করুণ কাহিনী নিজের কানে শুনলেন তারা।
এ বিষয়টি নিজ টুইটারে শেয়ার করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘ মহাসচিব টুইটে লিখেছেন, আমি বাংলাদেশের কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের কথা শুনেছি। তারা ন্যায়বিচার চায় এবং নিরাপদে বাড়িতে ফিরে চান।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
সেখান থেকে তারা যান উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ অবস্থা দেখতে ও বুঝতে এবং বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা জানাতে আন্তোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম গত শনিবার ঢাকায় আসেন। তাঁরা গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।
মহাসচিব হওয়ার পর এই প্রথম জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে এলেন। আজ বেলা আড়াইটায় তিনি কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন।
বর্তমানে কক্সবাজারে উখিয়া ও টেকনাফে ৩০টি আশ্রয়শিবির রয়েছে। এই আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৮। এর মধ্যে উখিয়ার ১২টি আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা আছে সাত লাখ। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা। গত জুনের মাঝামাঝিতে সাত দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় দুজনের মৃত্যু হয়, আহত হয় ৩১ জন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা।
Sylhetnewsbd Online News Paper