সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেকের মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙে গেছে। তাকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হবে।
গত ২ জুলাই বিকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে পতাকা মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ এতে হামলা চালায়। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এদের মধ্যে তরিকুলকে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রামদা, হাতুড়ি, লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। প্রথমে জানা যায় আঘাতে তরিকুলের ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে চিকিৎসকরা জানান, তরিকুলের মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে রাজশাহী নগরীর রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তরিকুলের তত্ত্বাবধানে থাকা রয়্যাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাঈদ আহমেদ জানান, তরিকুলের ডান পা ভেঙেছে। ওর পিঠের এক্স-রে করিয়েছি আমরা। কোমরের ঠিক উপরে মেরুদণ্ডের হাড় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে গেছে বলা যায়।
তিনি বলেন, ভারী কিছুর আঘাতে এমনটি হয়েছে। অস্ত্রোপচার করার দরকার হবে কিনা সেটা এক্স রে প্রতিবেদন হাতে এলে জানা যাবে। তবে দীর্ঘসময় তাকে চিকিৎসা নিতে হবে।
তরিকুল জানান, কোমরের ঠিক উপরের জায়গায় প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করছেন তিনি। ক্রমে তা বাড়ছে। একটু নড়াচড়া করলেই মনে হচ্ছে কেউ ভারী বস্তু দিয়ে সেখানে আঘাত করছে।
হামলার পর পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থেকেও তরিকুলের শারিরীক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। শরীরজুড়ে প্রচন্ড ব্যাথা। বাম পায়ে বড় কোনো আঘাত না থাকলেও ডান পা নড়াচড়া করলে পুরো শরীর ব্যাথা করছে। হাসপাতালের বেডে উঠে বসতেও পারছেন না তরিকুল।
এদিকে কৃষক পরিবারের সন্তান তরিকুলের সহপাঠীদের চাঁদার টাকায় তাঁর চিকিৎসার খরচ চলছে। সহপাঠীরাই হাসপাতালে সার্বক্ষণিক
তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করছেন। চিকিৎসার জন্য তোলা টাকার হিসাব রাখছেন তরিকুলের সহপাঠী মনজুরুল আলম।
মনজুরুল জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক্স-রেসহ সাতটি পরীক্ষার পর তাঁদের হাতে আছে মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা।
এদিকে গাইবান্ধার গ্রামে তরিকুলের বাবা খোরশেদ আলমকে (৬০) হয়রানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছে পরিবার।
তরিকুলের বোন ফাতেমা খাতুন বলেন, তাঁদের খেটে খাওয়া পরিবার। কেউ রাজনীতি করেন না। আমরা তিন ভাই-বোন, সবাই লেখাপড়ায় আছি। আমাদের তো তেমন জমিজমাও নেই যে বিক্রি করে ভাইয়ের চিকিৎসা করাব। এ ঘটনার পর মা ভেঙে পড়েছেন। ভাইয়ের ক্লাসমেটরা (সহপাঠী) না থাকলে চিকিৎসা করানো মুশকিল হতো।
তরিকুলকে বাঁচাতে পুলিশ এগিয়ে এসেছিল
তরিকুলকে বাঁচাতে দৌড়ে এসেছিল পুলিশ
Posted by Robin Akram on Friday, 6 July 2018
Sylhetnewsbd Online News Paper