আলোচিত সাংবাদিক নির্যাতন: একই ঘটনার অবিকল প্রতিচ্ছবি

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: কুষ্টিয়া এখন বহুল আলোচিত একটি নাম। বিশেষ করে রোববার ২২ জুলাই দৈনিক আমার দেশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পর কুষ্টিয়ার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে।

তবে ঠিক একই রকম ঘটনার জন্য আজ থেকে ১২ বছর আগেও একবার দেশজুড়ে নাম ফুটেছিলো কুষ্টিয়ার। সেদিন আজকের মাহমুদুর রহমানের মতোই আর একজন শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকের কপাল ফেটে রক্ত জড়েছিলো।

২০০৬ সালের ২৯ মে, সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে গিয়ে এই জেলাতেই হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এই হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একইভাবে এক যুগ আগে বিএনপি এবং ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সাংবাদিক সমাবেশে এসে হামলার সময় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও তারাও বাধা দেয়নি।

সে সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরী থানায় মামলা করতে গেলেও তা নেয়া হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সেই মামলাটি হয়। মাহমুদুর রহমানও রবিবারের হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিকরা জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হামলা, তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার কারণে কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদেও একটি বড় অংশকে আত্মগোপনে যেতে হয়েছিল। সে সময় তুমুল আলোচিত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর নাম এসেছিল। আর তার প্রতিবাদেই সমাবেশে এসেছিলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

হামলার সময় রুমী তার বাসভবনে ছিলেন। তার সে সময়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারী বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রুমীর বাসা থেকে সরাসরি এসে হামলা করে সাংবাদিক সমাবেশে। আর সে সময়ও পুলিশ সব কিছু দেখে নীরব ছিল।

একইভাবে রোববার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আদালত ভবন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী দুই দফায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে হামলার শিকার মাহমুদুর রহমান ও কুষ্টিয়া বিএনপির নেতারা।

হামলায় মাহমুদুর রহমানের মাথা ফেটেছে। তার গাড়িটি ভেঙে দেয়। এর আগে আদালতের ভিতর মাহমুদুর রহমানকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।