কয়লা ‘গায়েবের’ ঘটনায় ৪কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা ‘গায়েবের’ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

চার কর্মকর্তা হলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিব উদ্দিন আহমেদ, জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেম প্রদানিয়া, জিএম আবি তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী এবং ডিজিএম খালেদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপ‌রিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

এর আগে সোমবার এই ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। সেদিনই কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, আমরা কয়লা খনির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, খনির কোল ইয়ার্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু কোল ইয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। বাকি ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লার কোনও হদিস নেই। বিপুল পরিমাণ কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ায় এখানে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির আলমত পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দুদক অফিসে জানিয়েছি।

তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করতে ৬০ দিন সময় লাগবে। কেন্দ্রীয় দুদক অফিসের তদন্ত শেষেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদকে অপসারণ করে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দফতরে সংযুক্ত করা হয় এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও কোম্পানী সচিব) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড সিরাজগঞ্জে তাৎক্ষনিক বদলি করা হয়। বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলার পরিচালক আইয়ুব খানকে। ঘটনায় গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কয়লা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রবিবার রাত ১০টার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম বিদ্যুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রংপুর বিভাগের আট জেলায়। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা চুরি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও কয়লা গায়েবের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।