বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীতে বাসে আগুন

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে অন্তত তিনটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এনা ও বুশরা পরিবহনের ২টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অন্তত পাঁচটি বাস ভাংচুর করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে দুপুরে ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুর করা হয়েছে।

দুপুর পৌনে ১ টার দিকে বেসরকারি সাউথ ইস্ট ইউনিভারসিটির শিক্ষার্থীরা নাবিস্কোর সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এছাড়া রাজধানীর ব্যস্ত চত্বর মতিঝিলের শাপলা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

একই অবস্থা শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক এবং রামপুরা- বাড্ডা সড়কেরও। বাড্ডায় বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক আটকে বিক্ষোভ করতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ফার্মগেট এলাকায় অবরোধ করে রাখে বিজ্ঞান কলেজসহ আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা। এতে সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। একইভাবে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করার চেষ্টা করলে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

উল্লেখ্য, বাস চাপায় নিহতের ঘটনায় নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান ও অবরোধ শুরু করেন তারা।

এদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, ঘটনা যারা ঘটিয়েছে এবং যে গাড়িটি ঘটিয়েছে এগুলো যেন ইনকোয়ারি করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

এর প্রতিবাদে গত দুদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।