সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: চিকিৎসা শেষে নিজ ক্যাম্পাসে ফিরেছেন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। তারা নূরকে হর্ষধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন।
সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন নুর। তিনি বলেন, আমি আপনাদের নূর বলছি। সন্ত্রাসীদের ভয় পাবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি সন্ত্রাসীদের ভয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে থেমে যান, তবে এ জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ৫২, ৭১, ৯০ শুরু করে সব গণতান্ত্রিক এবং মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সূচনা হয়েছে।
এসময় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি, হামলাকারীদের বিচার এবং পাঁচ দফার আলোকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তিনি।
নুর আরও বলেন, আমরা কোনো অন্যায় করিনি, একটি যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের ওপর কেন হামলা হবে?
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের বিপরীতে প্রশাসনের নিশ্চুপ থাকার প্রতিবাদ জানিয়ে নূর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দলীয় রাজনীতির কারণে কোনো প্রতিবাদ করছে না। তাদের সামনে তাদের সন্তানদের কুকুরের মতো মারা হচ্ছে, শহীদ মিনারে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, আমাদের বোনদের ধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা কি এতই অন্ধকার যুগে ফিরে গেছি যে, তার পরও আমরা কোনো প্রতিবাদ করব না?
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের উৎসাহেই, আপনাদের জন্যই আন্দোলন করেছি। আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে, রাশেদসহ অনেককে জেলে নেয়া হয়েছে। ৮, ৯ ও ১১ এপ্রিলের মতো যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনারা অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে নেমে আসেন, তবে কারো সাহস নেই এই ছাত্রসমাজের বুকে আঘাত করে।
এর পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে মিছিল করলেন হাতে প্লাস্টার বাঁধা নূর।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গত ৩০ জুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে উপস্থিত হয়েছিলেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।
ওই সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরকে মারাত্মক আহত করে। হামলার একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে নূরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে ধানমণ্ডির বেসরকারি আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রশাসনিক চাপের মুখে মোট পাঁচটি হাসপাতাল বদলিয়ে চিকিৎসা নেন পটুয়াখালীর কৃষক পরিবারের সন্তান নূর।
Sylhetnewsbd Online News Paper