সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী। মুক্তিযুদ্ধসহ নানা কারণেই জামায়াত বিতর্কিত, হারিয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনও। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। বিএনপির অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেনি। তবে নানা হম্বিতম্বি দেখিয়ে নির্বাচনে শেষপর্যন্ত জামানত হারিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের ঔদ্ধত্যকে ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি যে জাতীয় ঐক্য গড়তে চাইছে, সেজন্য জামায়াতকে ছাড়তে বিএনপির ওপর নানামুখী চাপ রয়েছে। এরকম অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেট বিভাগের বিএনপি নেতারা।
ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেট বিভাগের চার জেলা ও এক মহানগর শাখা বিএনপির ২৫ নেতা। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ওই বৈঠকে সিলেট বিভাগের বিএনপির ২৫ শীর্ষ নেতা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আহবান জানান। তারা বলেন, বিএনপি যদি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে দলের (বিএনপি) গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। তখন ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকেও বিএনপিকে ‘যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগি’ হিসেবে তকমা দেয়া বন্ধ হবে।
জামায়াতকে ছাড়তে সিলেটে নেতারা আরও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বিএনপির জোটে জামায়াত থাকায় প্রভাবশালী প্রতিবেশি দেশ ভারত বিএনপিকে ‘ভালো চোখে দেখে না’। জামায়াতকে ছাড়লে ভারতও বিএনপির প্রতি কঠোর মনোভাব থেকে সরে আসতে পারে।
শুধু জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়টিই নয়, বৈঠকে সিলেটে নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করা, সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কাজ শুরু, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়েও নিজেদের প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে উত্থাপন করেন।
ওই বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলছেন, ‘সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী দেওয়ার পরও জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ২০ দলীয় জোটের পক্ষ জামায়াতকে অনুরোধ করা হলেও তারা প্রত্যাহার করেনি। এসব কারণেই জামায়াতকে জোটে না রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি আমরা।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক (সিলেট বিভাগ) সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলছেন, ‘সিলেট সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী জয়লাভ করায় দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে আমাদের অভিনন্দিত করা হয়। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার করাসহ জাতীয় ঐক্যর বিষয়ে কথা বলেছি।’
Sylhetnewsbd Online News Paper