সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। আগামী নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আবারো পরাজিত করবো।’
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট সরকারি এ.এইচ.সি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শেষ নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ৬৯ বছরের ইতিহাসে একবারও নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসেনি। বন্দুকের নল উঁচিয়ে নয়, চক্রান্তের চোরাবালি দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের নৌকার জোয়ার বইছে, নৌকার জোয়ার আর উন্নয়নের জোয়ার একাকার হয়ে গেছে। পৃথিবীর ৩ জন সেরা সৎ রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে একজন শেখ হাসিনা। পৃথিবীর সেরা ১০জন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে একজন হলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা বলেছিলেন, তোমরা বলেছিলেন তোমরা যদি উন্নয়ন দেখতে চাও, তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে আস।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আপনারা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রাণ। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকবেন, কেন্দ্র রক্ষা করবেন। কোন অশুভ শক্তি যেন এ ভোট বিনষ্ট করতে না পারে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। জনগণই আমাদের ক্ষমতার উৎস।’
মওদুদ আহমদকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি নিজের গাড়ি বাড়িতে রেখে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েছেন। মাইক্রোবাস ভাড়া করার উদ্দেশ্যে আছে। নিজেরাই গাড়ি ভাঙ্গতে পারেন। অন্যরাও ভাঙ্গতে পারেন। ভাড়া গাড়ি ভাঙ্গলে ওনার কি আসে যায়। এরা কেমন দেশপ্রেমিক। মওদুদ সাহেব, মিথ্যাচার করবেন না।’
নেতাকর্মীদের হুশিয়ার দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কোন উস্কানি দিবেন না, আপনাদের ২-৪ জনের জন্য দলের বদনামী হয়। মওদুদ আহমদের গায়ে হাত দিবেন না। ওনার গায়ে হাত দেওয়া মানেই আমার গায়ে হাত দেওয়া।’
তিনি জগগণের উদ্দেশ্য আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে বেইমানি করি নাই। কথা দিয়েছি, কথা রেখেছি। রাস্তা দেবো বলেছি রাস্তা দিয়েছি। চরলেংটা, চরপার্বতী, সিরাজপুর, চরকাঁকড়া, রামপুর, মুছাপুর থেকে শুরু করে চরাঞ্চল পর্যন্ত মাকড়শার মত রাস্তা করে দিয়েছি। এমন কোন জায়গা নেই ব্রিজ, কালভার্ট, কমিউনিটি সেন্টার করি নাই। আমাদের সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, ১৬ কোটি মানুষের কাছে ১৫ কোটি মোবাইল, ১০ কোটি মানুষকে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাফিয়া বেগম, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, এলিন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, এলিন গ্রুপের পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম শরিফ চৌধুরী পিপুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা শামীম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল করিম জুয়েল, স্বাধীনতা ব্যাকাংস পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন মুন্না প্রমুখ। ইত্তেফাক
Sylhetnewsbd Online News Paper