আব্দুল লতিফ নতুন: ৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কংবদন্তী ছাত্রনেতা, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সংগ্রামী যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, জেলা ক্রিড়া সংস্থার সদস্য, বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আমার রাজনৈতিক অভিবাবক, ২৯ বছর ধরে যে নেতা আর্শিবাদ নিয়ে রাজনীতি করছি তিনি হলেন বিজিত চৌধুরী। সবার কাছে পরিচিতি বিজিত দা নামে। তিনি’র এক সহকর্মী ছিলেন জেলা যুবলীগের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আব্দুর রব সাজা।
বিজিত দা নিজেকে প্রচার করতে চান না। সৎ, আদর্শবাদ নেতা। এক কথায় চলেন। তিনি’র এক সময়ের সহকর্মী ছিলেন চট্রগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ ভাই, চট্রাগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আজম নাসির, বরিশাল কারমাইলকেল কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুস সবুর অর্থাৎ সবুর ভাই । খুনী জামাত শিবির ৮৮ সালের দিকে সবুর ভাইয়ের ডান হাত কেঠে দিয়েছিল। আমার রাজনৈতিক জীবনে দেখেছি তিনি কোন দলীয় অনুষ্টানে অনুপস্থিত নেই। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের অত্যন্ত আস্তাভাজন কর্মী বিজিত চৌধুরী।
৯০ এর এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন নেতা হিসাবে তিনি ছাড়া মিছিল হত না। সবাই অপেক্ষা করতেন বিজিত দার জন্য। আমরা দাদা না আসা পর্যন্ত আমাদের বুকে সাহস আসতো না। শত শত মামলা তিনি’র বিরুদ্ধে। তখন সবার মটর সাইকেল ছিল না। তিনি’র হানড্রেট মটর সাইকেলের শব্দ শুনলে মনে হত দাদা চলে এসেছেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে কিভাবে, কোথায় থেকে কিভাবে এসেছেন কেউ বুছঝতো না। তৎকালীন কতোয়ালী থানার এস আই সুভাষ দার একটা চিন্তা ছিল দাদাকে গ্রেফতার করা। আমার লেখায় কেউ আঘাত পেতে পারেন। তারপরও বলতে চাই সেদিনের সিলেটে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিজিত চৌধুৃরী,অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বর্তমানে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক,,জাসদ ছাত্রলীগের জাকির আহমদ আজও জাসদ রাজনীতির সাথে জড়িত। আবুল কাহের শামিম জাসদ ছেড়ে এখন বিএনপিতে। ছাত্রলীগ নেতা কাজী কয়েস আহমদ বিদেশে,এটিএম ফয়েজ বর্তমানে বিএনপিতে,ছাত্র ইউনিয়নের তাপস পুরকায়স্থ,আলী আরশাদ সুইট ভাই,বাসদ ছাত্রলীগের মোহাম্মদ শাহজাহান বর্তমানে কুলাউড়া শ্রমিকলীগের সভাপতি, ছাত্রমৈত্রীর ম আ মোশাহিদ আরো অনেকে। তখন রাজনীতিতে কোন গ্রুপিং ছিল না। সবার একটি শপথ ছিল স্বৈরাচার এরশাদের পতন। বিজিত দা এক পর্য্যায়ে গ্রেফতার হলেন। আমরা অভিবাবক শূন্য হয়ে গেলাম। সুজাত ভাই আমাদেরকে দেখভাল করতেন।
আজ একটি কথা বলতে চাই ৮৮ সালে যখন খুনী জামাত-শিবির জাসদ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল,মনির ও তপনকে নিমর্মভাবে খুন করলো সিলেট তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক সংগঠন এক কাতারে। আমার মনে আছে সবার একই চিন্তা কিভাবে সিলেট থেকে কিভাবে খুনী জামাাত শিবিরকে বিতাড়িত করবে। জুয়েল,মনির,তপনের বদলা নেওয়া হবে।
এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়া হবে। জাসদ ছাত্রলীগ শাহী ঈদগাহ এলাকায় অবস্থান নিয়ে টিলাগড়ে আসবে। কাজী কয়েস ভাই নেতৃত্বে টিলাগড় পয়েন্টে জামায়েত ছাত্রলীগের। মেজরটিলায় বাসদ ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান ভাই ও ছাত্রমৈত্রী নেতা মআ মোহাহিদের নেতৃত্বে জমায়েত হবে। আমরা বিজিত দাদার নেতৃত্বে ৮৮ সালের এই দিনে প্রথম এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলাম। সেদিনের বিজিত দার শ্লোগান ” বাধা আসবে যেখানে লাড়াই হবে,সেখানে।” “রক্তের বন্যায়,ভেসে যাবে অন্যায়” “জামাত ধর শিবির ধর,ধরে ধরে বস্তায় ধর” ।। বিজিত দার সেই শ্লোগান আজও কানে কম্পিত হয়ে উঠে। এক পর্য্যায়ে ঐদিন জুয়েল,মনির ও তপন জামাত শিবিরের হাতে শহীদ হলেন। জুয়েল,মনির,তপন বিপ্লবের স্পদন হলেন। ঐদিন জাসদ ছাত্রলীগের ভূলের জন্য জুয়েল, মুনীর ও তপনকে প্রাণ দিতে হল।
সিলেট শহরে ১৪৪ধারা জারী হল। খুনী জামাত-শিবির সিলেটকে রক্তাক্ত করলো। দিন তারিখ মনে নেই। প্রথম আমরা দুই একদিন পর জিন্দাবাজারে কানিজ প্লাজার পিছনের গোপনে জমায়েত হলাম বিজিত দার নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য।আমরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হঠাৎ সাবেক এমপি মরহুম শাহ আজিজুর রহমান উপস্থিত হলেন। তখন সমাচার পত্রিকা তাঁতিপাড়ায়। আমরা জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে তাঁতিপাড়ায় দিকে চলে গেলাম। সেদিনের কম্পনে জিন্দাবাজার কম্পিত হয়েছিল। বিজিত দাকে গ্রেফতার করার জন্য হণ্য হয়ে পাগল পুলিশ প্রশাসন। আমরা সবাই একটু নিরাপদে গিয়ে মির্জাজাঙ্গালে অবস্থান নিলাম। মুহুর্তের মধ্যে পুলিশ। আমরা পুলিশ ব্যারিকেডে। একের পর এক দেয়াল টপকিয়ে আমি বিজিত দা, এডভোকেট মোস্তফা শাহিন চৌধুরী, অদুদ ভাই,বন্ধু খসরু আর বদরুল হোসেন লিটন গোপনে সিলেট ষ্টেডিয়ামের ভিতর অবস্থান নিলাম। সেখানেও পুলিশ। বন্ধু লিটন গ্রেফতার হল। বিজিত দাকে হন্য হয়ে পুলিশ খুজঁছে। একে একে আমরা সেখান থেকে সটকে যাই। সেদিন আমি একটি ডেইনে পড়ে যাই আমাকে মির্জাজাঙ্গালের হিন্দু মমতাময়ী মা পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করে আমাকে বুকে টেনে নিলেন আমাকে একটি লঙ্গী দিলেন। নানা ভাগে বিভক্ত আমরা সুজাত ভাই, হাসান ভাই,রাজু ভাইয়ের টিম কোন দিকে চলে গেলেন সবাই টনশনে। আজ মনে নেই। আমি অদুদ ভাই ও খসরু। হেঁটে হেঁটে চৌহাট্রা হয়ে যখন মিরবক্সটুলার দিকে টিলাগড়ে গোপনে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তখন পুলিশ আমাদের কে তল্লাশী করতে চেয়েছে। আমার পরনে লঙ্গী দেখে। তেমন তল্লাশী না করে চলে গেল। অদুদ ভাই বলছিলেন কেউ দৌঁড় দিবে না। যদি আমাদের রিক্সার সিট তুলতো পুলিশ তখন আমরা মহাবিপদে পড়ে যেতাম। আমি আর খসরু তখন শিশু কর্মী। কিন্তুু বিজিত দা আমাকে ও খসরুকে রেখে একটি মহুর্তের জন্য সরে যাননি।
বিজিত দার গৌরব উজ্জ্বল রাজনৈতিক ইতিহাস,সফল ছাত্রনেতা,সফল যুবনেতা। সফল সংগঠক। আজ প্রবাসী সাজা ভাই অসুস্থ। বিজিত দাদাকে আগামী দিনের রাজনীতিতে মূল্যায়ন করা হউক। দাদার দিকে তাকিয়ে আছে সৃষ্টি হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এক পলকে ডাক দিলে সবাই জমায়েত হবে। জাতির জনকের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রেল গাড়ীতে বিজিত চৌধুরী আদর্শবান কর্মী দাদাকে হাজারো সালাম।
লেখক: এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সিলেটের ছাত্রনেতা।
Sylhetnewsbd Online News Paper