সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে ভেসে থাকা ৬৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে রাজি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন গতকাল শুক্রবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে ৫টা ১৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজে করে তিউনিসিয়া থেকে ওই ১৭ বাংলাদেশি ঢাকায় পৌঁছেছেন।
যাঁরা ফিরেছেন তাঁরা হলেন মাদারীপুরের মো. লাদেম মাদবর, রাসেল মাদবর, রাজিব মাদবর, জুয়েল সেজাল, আজাদ রহমান, পিয়ার আলী, আকমান মাতুব্বর ও মীর আজিজুল ইসলাম; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু বক্কর সিদ্দিক, শাহজুল খাদু, ইদ্রিস জমাদ্দার ও নিয়ামত শিকদার; সুনামগঞ্জের শিপন আহমেদ, নেয়াখালীর রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের শফিকুল ইসলাম, শরীয়তপুরের রাকিব হোসেন ও মৌলভীবাজারের জিল্লুর রহমান।
ভূমধ্যসাগর হয়ে এভাবে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে জানিয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের মানবপাচার যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। ’
রেডক্রিসেন্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিউনিসিয়ার সাগরে একটি নৌকায় ভাসছিলেন ৭৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। যাঁদের মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশি। নৌকাটি তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে পৌঁছলেও সে দেশের কর্তৃপক্ষ তাদের তীরে নামার অনুমতি দেয়নি।
তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের শরণার্থী কেন্দ্রে আর জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে ওই নৌকাটি উপকূলীয় জারজিস শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসতে থাকে।
পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সেখানে যান।
লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আটকে পড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তিউনিসিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ১৮ জুন সন্ধ্যায় জারজিস বন্দরে নামার অনুমতি দেয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনোক্রমেই তাদের জারজিস বা মেডেনিনে থাকার অনুমতি দেয়নি। এমতাবস্থায় উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিউনিসে এনে রেড ক্রিসেন্ট ও আইওএমের যৌথভাবে পরিচালিত শেল্টার হাউসে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেশে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২০ জনকে টিকিট দিলেও তিনজন আসতে রাজি হননি। বাকি ১৭ জন গতকাল বিকেলে দেশে ফিরেছেন।
লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, তিনজন দেশে আসতে রাজি না হওয়ার বিষয়টি নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে শেল্টার হাউসে অবস্থানরত আরো কিছু বাংলাদেশি এ মুহূর্তে দেশে যেতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা তাদের সবাইকে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রাজি করানোর পরই তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। দূতাবাসের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাপড়চোপড় এবং তিউনিসে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া তাদের সবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেশে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সবাই দেশে ফিরে না গেলে পরবর্তী সময়ে এ রকম দুর্ঘটনায় তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
Sylhetnewsbd Online News Paper