সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আক্রান্ত এলাকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হবে। আর এজন্য ১২০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া আবারও বন্যা হলে কি করণীয় তারও প্রস্তুতি নেওয়া আছে। চলমান বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
বৈঠকে ড. ইউ এস সিং বলেন, ‘আইপিসি বাংলাদেশে এর একটি কেন্দ্র স্থাপন করতে চাচ্ছে।’ এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বাংলাদেশে কেন্দ্র করার জন্য জমি দেওয়ার কথা জানান। আর এই কেন্দ্র স্থাপনের কারিগরি সকল সহায়তা দেবে আইপিসি। কৃষিমন্ত্রী এ সময় আলুর জাত উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির জন্য আইপিসি’র সহায়তা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত আলুর জাতের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে সে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আলু উৎপাদন করতে হবে। আমাদের চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদিত আলু নিয়ে কাজ করতে হবে। এর প্রক্রিয়াজাত করে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে, পাশাপাশি আলুর বহুবিধ ব্যবহার করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি খাতের জন্য টাকার কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপনাদের (আইপিসি) সহযোগিতা চাই, কীভাবে আলুর জাত উন্নয়ন ও তা প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা যায় সে ব্যাপারে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে কিছু জেলায় আলুর প্রায় ৩০টি জাতের চাষ ব্যাপকভাবে হয়। বিগত বছর আলুর উৎপাদন আমাদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ টন বেশি হয়েছে। এছাড়াও পুষ্টিমান সম্পন্ন মিষ্টি আলুর চাষ হচ্ছে আমাদের দেশে। এ খাতে বাংলাদেশকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।’
এর আগে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (আইপিসি) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ড. ইউ এস সিং-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন। এই প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড.এম.এ বারী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য লুৎফুল হাসান। বৈঠকে আলুর লেইট ব্লাইট রোগ নিয়ে কথা হয়।
Sylhetnewsbd Online News Paper