পেঁয়াজের ঝাঁজ আগের মতো নেই

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ তিন মাস থেকে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল। ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যায়। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। সাধারণ মানুষ পেঁয়াজ নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েন। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা পেঁয়াজ ক্রয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তবে বর্তমানে পেঁয়াজের ঝাঁজ আগের মতো নেই। অগ্নিমূল্যে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক দোকানে পেঁয়াজ নেই, আর থাকলেও খুবই সীমিত। গত ৭২ ঘন্টায় কেজিতে গড়ে ২৫ টাকা দাম কমে নগরীতে ১৭০-১৯০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আবার পাড়া-মহল্লার কোথাও কোথাও ২১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই সময়ে গত মাসে পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০ টাকা; তার আগে সেপ্টেম্বরে ছিল প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা। অর্থাৎ গত তিন মাসে বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজ কেজিতে ৭৫-২২০ টাকা উঠানামা করেছে।

জানা যায়, পেঁয়াজের অস্থিতিশীল বাজারে ‘দাম কমবে, নাকি স্থির থাকবে, নাকি বাড়বে’ এসব প্রশ্নে জর্জরিত বিক্রেতারা। দাম বাড়ায় ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে নারাজ। দাম কমবে এমন আশায়, বেশিরভাগ মানুষ বাধ্য হয়ে ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করেন। তারপরও গত তিন মাস থেকে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক উঠানামা করায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দীর্ঘ সময়ে লাগাম টেনে ধরতে না পারায় অনেকেই সরকারকে দোষারূপ করছেন। তবে সম্প্রতি সরকার বাইরের কয়েকটি দেশ থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করায় ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। যদিও সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম আসবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

গত রোববার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ভারতীয় এলসি ১৯০ টাকা, তুর্কি ২১০ থেকে কমে ১৯০ টাকা, বার্মিজ ২১০ থেকে কমে ২০০ টাকা, মিশরীয় ২০০ থেকে কমে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় পেঁয়াজের দাম গড়ে ২৫ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। এ সময়ে অনেক দোকানে পেঁয়াজ একেবারে নেই। আবার যেসব দোকানে আছে তা যেকোন সময়ের চেয়ে খুবই অল্প।

এভাবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম চড়া থাকলেও পরদিন ৭৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়। পয়লা অক্টোবর পুনরায় পাগলা ঘোড়ার মতো পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে একলাফে ১১০-১২০ টাকায় উঠে। এ সময় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ১৫-১৬ দিন পর দাম কিছুটা কমে ১৮ অক্টোবর পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। এর ১০ দিন পর পুনরায় ২৭ অক্টোবর দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ১০৫-১২০ টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে চলতি মাসের ২ নভেম্বর দাম কিছুটা কমে আসে। খুঁচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজি ৯০-১০০ টাকা। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ১২ নভেম্বর আবার কেজিতে গড়ে ৪০ টাকা বেড়ে যায়। বাজারে বিক্রি হয় প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকা। এরপর থেকেই পেঁয়াজের দাম প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তেই থাকে। একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয় ১৬০-২০০ টাকায়। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর সিলেট নগরীতে পেঁয়াজের কেজি ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পেঁয়াজের সমস্যা যাতে না থাকে তাই কার্গো বিমান ভাড়া করে আমরা এখন পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। এখন পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে। কাজেই আর চিন্তা নাই। দু’এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজ এসে পৌঁছাবে।’ তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই পেঁয়াজের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে উঠে। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে গতকাল রোববার সিলেটে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা নি¤œমুখী ভাব লক্ষ করা গেছে। আগের দিনের চেয়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২০-৩০ টাকা দাম কমে বিক্রি হচ্ছে।