অবশেষে সিলেটে হচ্ছে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) টেস্ট সেন্টার

সিলেটনিউজবিডি ডেস্ক: অবশেষে সিলেটে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটি চালু হবে। এই সপ্তাহের মধ্যেই এই পরীক্ষাটি চালু করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, ঢাকার বাইরের ৮টি পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা পিসিআরের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সনাক্ত করণ পরীক্ষা করানো হবে। ইতোমধ্যে ঢাকার বাহিরে চট্রগ্রামে পরীক্ষাটি শুরু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে আরটি-পিসিআর থাকলেও তা শুধু গবেষণা কাজেই ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে করোনা ভাইরাস ( কভিড -১৯) পরীক্ষার জন্য একটি আরটি- পিসিআর বরাদ্দ করেছে যা দু’একদিনের ভেতর ঢাকা থেকে এসে ইনস্টলেশন করার কথা। ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে কভিড-১৯ সনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগ মিলছে । এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় সিলেটনিউজবিডি ডটকমকে বলেন, “আমাদের হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে পিসিআর থাকলেও তা এখনো চালু করা যায়নি। তবে কলেজের অধীনে পরীক্ষাটি শীঘ্রই শুরু হবে।” এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেটে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা সেন্টার খুলতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় বিষয়টি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি বিভাগের ডিন এবং অধ্যক্ষ ডা: মোঃ ময়নুল হক জানান, ” স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা চিঠি কিছুদিন আগে আমরা পেয়েছি, সেখানে করোনা ভাইরাস ( কভিড ১৯) পরীক্ষার সেন্টার খোলার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। ঢাকা থেকে ইতোমধ্যে নতুন আরটি- পিসিআর ও কিট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আইইডিসিআরের অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দক্ষ শিক্ষকবৃন্দের অধীনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। আমরা আশাবাদী এ সপ্তাহের শেষদিকেই সুখবর দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ “।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, ” প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) পরীক্ষা সেন্টার শীঘ্রই খোলা আর দেরি না করে অচিরেই খোলা প্রয়োজন। আক্রান্ত মানুষের জানার অধিকার রয়েছে , তিনি সত্যিই আক্রান্ত কিনা? পরীক্ষা সেন্টারটি খোলার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিশেষকরে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আমি সিলেট আওয়ামীলীগের পক্ষ ধন্যবাদ জানাই।”

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগী সিলেটের নির্ধারিত আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হলেই কেবল মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে করোনা ভাইরাসের ( কভিড-১৯) এই টেস্ট করা হবে। উল্লেখ্য, আইসোলেশন সেন্টার সিলেটের সদর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ইতোমধ্যে দুটি আইসিইউ বেড চালু করা হয়েছে।

দ্রষ্টব্য:  সংবাদটি তৈরীতে সহযোগিতা করেছেন পোর্টালটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো: আব্দুর রশিদ খান রাশেদ