ভারত-চীনের নতুন লড়াই!

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ভারত চীনের দীর্ঘ দিনের উত্তেজনার মধ্যে এবার নতুন করে দুদেশের মধ্যে লড়াই শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর তা হবে থাইল্যান্ডের ক্রা ইসতমাস খাল নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে। খবরে বলা হয়, মালয় উপদ্বীপের সবচেয়ে সরু অংশ ওই থাই খালটি নিয়ে কথা হচ্ছিল লম্বা সময় ধরেই। এটি ভারত মহাসাগরে যেতে চীনের জন্য দ্বিতীয় সাগর রুট খুলে দিতে পারে। আর এপথে চীনের নৌবাহিনী দ্রুতগতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে নবনির্মিত ঘাঁটিগুলো থেকে ভারত মহাসাগরে যেতে পারবে। যার ফলে দেশটির নৌ সেনাদের মালয়েশিয়ার দক্ষিণ অংশ হয়ে আরও ৭০০ মাইল ঘুরে আসতে হবে না। এ কারণে থাইল্যান্ডের এ খালটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে চীন।

জানা যায়, চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের ফলে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ভারতীয় ২০ জন সেনা। সাগর পথে ভারতকে ঘিরে ফেলতে বেশ কয়েকটি জোট গড়েছে চীন। চীনের নতুন ওই ঘাটির নাম মুক্তার মালা। চীন থাই খালটি খননে থাইল্যান্ডে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলে দেশটির জন্য ওই পথ উন্মোচিত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ দিনের বিতর্কিত খালটি নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। একটি পার্লামেন্টারি কমিটি চলতি মাসে প্রস্তাবটির ব্যাপারে সুপারিশ করতে যাচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নামমাত্র মিত্রতা থাকলেও থাইল্যান্ড এখন প্রবলভাবে ঝুঁকছে চীনের দিকে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে থাই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকারী সামরিক বাহিনীকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতির পর তারা বেইজিংমুখী হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ভারত মহাসাগরে প্রাধান্য বিস্তারের ক্ষেত্রে চীনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল মালাক্কা প্রণালী। সিঙ্গাপুর ও সুমাত্রাকে বিভক্তকারী এই সংকীর্ণ সাগর লেনটি দিয়েই চীনের সমুদ্র বাণিজ্য পরিচালিত হয়, দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার দিকে তার নৌবাহিনীকেও পাঠায় এই পথ দিয়ে।

সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উদ্দেশ্য সফল হলে থাই খাল হয়ে ভারতকে ঘিরে ফেলাতে পরিষ্কার পরিকল্পনা নিতে পারছে বেইজিং।

এদিকে, সাগর পথে চীনের মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভারত আন্দামান ও নিকোবর আইল্যান্ডসে বিমান ও নৌ ঘাঁটিগুলোকে ব্যাপকভাবে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মোদি সরকার। আর নয়াদিল্লির এসবের টার্গেট হবে কেবল চীন।

তবে, রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত থাই ক্যানেল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তারা এটাকে এশিয়ার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট গড়ে তুলতে চাচ্ছে। এই লক্ষ্যে এখানে গড়ে তোলা সম্ভব শিল্প পার্ক ও লজিস্টিকস। অবশ্য এটা কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

বর্তমান থাই খাল প্রকল্পে, ৯এ রুট নামে পরিচিত। এতে দুটি সমান্তরাল খালের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হবে ৩০ মিটার গভীর, ১৮০ মিটার প্রশস্ত এবং থাইল্যান্ড উপসাগরের সঙ্গলা থেকে আন্দাবান সাগরের ক্রাবি পর্যন্ত ৭৫ মাইল লম্বা হবে।

বর্তমানে থাইল্যান্ডের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা তুলনামূলক নিরাপদ। তবে থাই খালটি খনন করা হলে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক ভূগোল নতুন করে নির্ধারিত হবে। এটি চীনকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তা অংশীদারে পরিণত করবে, পানামার মতো থাইল্যান্ডও দেশটিকে সহজে বিদায় করতে পারবে না। ফরেনপলিসি/সাউথ এশিয়ান মনিটর